বাংলাদেশের আইটি ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ডিজিটাল সেবা খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো তরুণের জন্য বড় সুখবর এসেছে। বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর এতদিন যে ৭.৫ শতাংশ উৎসে কর (Withholding Tax) কাটা হতো, তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার পর এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন-কবে থেকে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সারদের পক্ষ থেকে বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর কর কর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হচ্ছিল। অবশেষে সেই দাবির ইতিবাচক সমাধান এলো।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক ইতোমধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ব্যাংকটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে আইটি ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশি আয়ের ওপর আর ৭.৫ শতাংশ কর কাটা হবে না।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ জানান, পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হারে কর কাটা হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ইতোমধ্যে কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডটকম, টপটাল, পিপল পার আওয়ারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্রিল্যান্সাররা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের আয়ের ওপর উৎসে কর আরোপ নতুনদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও তরুণদের উৎসাহিত করতে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে আরও বেশি তরুণ ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত হতে আগ্রহী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পর উদ্যোগ
সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়ের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে কর কাটা হচ্ছে—এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিষয়টি সরকারের নজরে এলে গত ১ জুন জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ “চিত্ত মিডিয়া”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান।
জুয়েল রানার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর এমন কর আরোপ না করার পক্ষে মত দেন।
কাটা টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে
ডাচ-বাংলা ব্যাংক জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে ৭.৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়া হয়েছে, সেসব অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে অর্থ ফেরতের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইটি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সফটওয়্যার রপ্তানি, আইটি সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো পেশায় বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি আয়ের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহারের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতাও বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সূত্র:vodbangla.com
সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য।
আরও পড়ুন-ছোট সিসির বাইকে কর ছাড়, বড় ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে আসছে নতুন ট্যাক্স




