ব্যাংকে না গিয়েই বিকাশে ডিপিএস, জানুন খোলার নিয়ম, মেয়াদ ও ইন্টারেস্ট রেট |

প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে না গিয়েই বিকাশে ডিপিএস, জানুন খোলার নিয়ম, মেয়াদ ও ইন্টারেস্ট রেট |

: বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ডিপিএস খোলার সুযোগ।

ভবিষ্যতের জন্য নিয়মিত টাকা জমানোর সহজ উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম। এখন ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার সুযোগ রয়েছে। বিকাশের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপ থেকেই সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ডিপিএস খোলা যায় এবং মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়।

বিকাশের মাসিক ডিপিএস বর্তমানে শুরু করা যায় প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে। মাসিক জমার জন্য ৫০০, ১ হাজার, ২ হাজার, ২ হাজার ৫০০, ৩ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার বিভিন্ন অপশন রয়েছে। মেয়াদ হিসেবে ৬, ১২, ২৪, ৩৬ ও ৪৮ মাস বেছে নেওয়া যায়। বিকাশ অ্যাপে বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের সিটি ইসলামিকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ডিপিএস স্কিম বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সাপ্তাহিক ডিপিএসের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম টাকা দিয়ে সঞ্চয় শুরু করা যায়। বিকাশের সেভিংস তথ্য অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ডিপিএস ২৫০ টাকা থেকে শুরু করা যায়। নির্দিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্কিম অনুযায়ী সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি এবং মেয়াদ ভিন্ন হতে পারে। তাই ডিপিএস খোলার সময় অ্যাপে প্রদর্শিত প্রতিষ্ঠান, কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ ও সম্ভাব্য মুনাফার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিকাশে ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ। প্রথমে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘নতুন সেভিংস খুলুন’ নির্বাচন করে ‘ডিপিএস অথবা ইসলামিক ডিপিএস’ বেছে নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য, মেয়াদ ও ডিপিএসের ধরন নির্বাচন করে মাসিক বা সাপ্তাহিক জমার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এরপর তালিকা থেকে পছন্দের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্কিম নির্বাচন করে নমিনির তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে শর্তাবলিতে সম্মতি এবং বিকাশ PIN দেওয়ার পর ডিপিএস খোলার আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

ডিপিএসের টাকা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কিস্তির তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে নির্ধারিত দিনে কিস্তি জমা নাও হতে পারে। বিকাশের বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে পরবর্তী কয়েক দিন পুনরায় টাকা কাটার চেষ্টা করা হতে পারে। শেষবারও কিস্তি জমা না হলে সেটি মিসড ইনস্টলমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কিস্তির সম্ভাব্য মুনাফায় প্রভাব পড়তে পারে।

ডিপিএসের ইন্টারেস্ট বা মুনাফার হার সম্পর্কে একটি বিষয় বিশেষভাবে জানা জরুরি। বিকাশ নিজে একটি নির্দিষ্ট সুদের হার নির্ধারণ করে না। যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট স্কিমের মুনাফা বা ইন্টারেস্ট রেট নির্ধারণ করে। ফলে সব ডিপিএসের জন্য একই ইন্টারেস্ট রেট প্রযোজ্য নয়। ডিপিএস খোলার আগে অ্যাপে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া রেট ও শর্ত দেখে নেওয়া উচিত।

ডিপিএসের মেয়াদ শেষে জমা টাকা ও প্রযোজ্য মুনাফা বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর মেয়াদপূর্তির টাকা ক্যাশ আউট করলে বিকাশের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ক্যাশ-আউট খরচ সমন্বয় বা মওকুফের সুবিধা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী AIT ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে। তাই হাতে পাওয়া চূড়ান্ত অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর ও অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ডিপিএস মাঝপথে বন্ধ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। বিকাশের বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, ডিপিএস খোলার পর প্রথম ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে এটি বাতিল করা যায় না। ৯০ দিন পর আগাম ভাঙানোর অনুরোধ করা গেলেও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে বন্ধ করলে নির্বাচিত স্কিম অনুযায়ী পুরো মুনাফা নাও পাওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী মুনাফা কমে যাওয়া বা অন্যান্য প্রযোজ্য বিষয় থাকতে পারে।

এদিকে ২০২৬ সালে বিকাশ ডিপিএস নিয়ে বিভিন্ন সময় বিশেষ অফারও দিয়েছে। বিকাশের প্রকাশিত বর্তমান প্রচারণার তথ্যে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন ডিপিএস খোলা বা কিস্তি জমার সঙ্গে মোবাইল রিচার্জ, পে-বিল কিংবা ডিসকাউন্ট কুপনের মতো সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অফারের মেয়াদ ও শর্ত সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই অফার দেখে ডিপিএস খোলার আগে বিকাশ অ্যাপে সেই সময়ের কার্যকর অফার, যোগ্যতা ও শর্ত যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে বিকাশের ডিপিএস সুবিধা অনেকের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। কম পরিমাণ টাকা দিয়ে শুরু করা, অ্যাপ থেকেই ডিপিএস খোলার সুযোগ এবং মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা এটিকে সহজ করেছে। তবে ডিপিএস খোলার আগে কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইন্টারেস্ট রেট, আগাম ভাঙানোর নিয়ম, কর ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page