সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ‘তদবির’ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ‘তদবির’ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা

চাকরি সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের করা তদবিরের বিস্তারিত তথ্য তাঁর ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের কী ধরনের আচরণ করতে হবে, তা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের কেউ কেউ চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, এ ধরনের তদবিরের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে তদবির করলে তার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে হবে।

তবে চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের আবেদন করার সুযোগ থাকছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী তাঁর চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

এ ধরনের আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তা যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ চাকরি সংক্রান্ত বৈধ কোনো বিষয়ে কর্মচারীর নিজস্ব আবেদনের পথ খোলা থাকছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে অন্য কাউকে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করার সুযোগ থাকছে না।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে তদবিরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনার ফলে সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত তদবিরের ঘটনা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে চাকরি সংক্রান্ত বৈধ আবেদন যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময়সীমার মধ্যেও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page