ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ভুল হলে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে
বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদন
ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল রয়েছে—এমন বিষয় অনেকেরই নজরে আসে। এ ধরনের ক্ষেত্রে নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যবস্থায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন এবং যানবাহনের শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজনের জন্য আলাদা আবেদন করা যায়। বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এসব কাজের জন্য নির্ধারিত ফরম ৪(খ) প্রকাশ করা হয়েছে।
বিআরটিএর ফরম ৪(খ)-এর নামই হলো মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, প্রতিলিপি, শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন, ধরন পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন এবং তথ্য সংশোধনের আবেদন। অর্থাৎ একজন লাইসেন্সধারীর প্রয়োজন অনুযায়ী একই নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে একাধিক ধরনের পরিবর্তনের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
তথ্য সংশোধনের আগে প্রথমেই বুঝতে হবে কোন তথ্যটি ভুল এবং সেটি সংশোধনের জন্য কী প্রমাণপত্র প্রয়োজন। নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ঠিকানা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির সঙ্গে বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত। কারণ শুধু নিজের বক্তব্যের ভিত্তিতে তথ্য পরিবর্তনের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তথ্যের প্রমাণ দিতে হতে পারে।
ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিআরটিএর আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। বিআরটিএর ওয়েবসাইটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ফরম ৫ প্রকাশ করা হয়েছে। আবার ফরম ৪(খ)-তেও ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করা উচিত।
ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর প্রকাশিত আবেদন ফরমে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন, পানি বিল অথবা নাগরিকত্ব সনদের মতো গ্রহণযোগ্য নথির মাধ্যমে ঠিকানার প্রমাণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই নতুন ঠিকানা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।
জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যের অমিল থাকলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিআরটিএর নাগরিক সনদে বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে রিফ্রেশার প্রবেশপত্র গ্রহণের আগেই বিএসপির মাধ্যমে অমিল অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে পুরোনো লাইসেন্সের তথ্যও হাতে রাখা প্রয়োজন। আবেদন ফরমে ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, সর্বশেষ ইস্যু বা নবায়নের তথ্য এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে পুরোনো স্মার্ট কার্ড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পাশাপাশি রেখে ভুলগুলো চিহ্নিত করা ভালো।
শুধু তথ্য সংশোধন নয়, কেউ চাইলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের শ্রেণি পরিবর্তন বা নতুন কোনো যানবাহনের শ্রেণি সংযোজনের জন্যও একই ধরনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন। বিআরটিএর অফিসিয়াল ফরমে শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন এবং লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তনের জন্য আলাদা অপশন রাখা হয়েছে।
আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হলে তা পরিশোধ করতে হবে। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা বিএসপিতে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিএসপিকে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স, নবায়ন এবং ডুপ্লিকেট লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার অনলাইন মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সব ধরনের তথ্য সংশোধনের নিয়ম এক নয়। কোনো তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কাগজপত্র বা প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু আবেদন ফরম পূরণ করে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে আগে বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা উচিত।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিজের নামের বানান, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং লাইসেন্সের শ্রেণি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একটি তথ্য সংশোধন করতে গিয়ে অন্য কোনো তথ্য ভুলভাবে পরিবর্তন হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আবার সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন ফরম আলাদাভাবে দেওয়া রয়েছে। এর মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেডিকেল সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন এবং নবায়ন, প্রতিলিপি, শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন, ধরন পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন ও তথ্য সংশোধনের আবেদন ফরম রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফরম ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালকে কেন্দ্র করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনেক সেবা অনলাইনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অনলাইনে আবেদন করা গেলেও সংশ্লিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী বায়োমেট্রিক, পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই বা সার্কেল অফিসে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু অনলাইন আবেদন করলেই প্রতিটি সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে—এমন ধারণা না করে আবেদনের পর বিএসপিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে কোনো তথ্য ভুল থাকলে নতুন করে লাইসেন্স করার প্রয়োজন নেই। ভুল তথ্যের ধরন শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রস্তুত করতে হবে এবং বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন, যানবাহনের শ্রেণি সংযোজন কিংবা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম ও সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
