স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করবেন যেভাবে

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করবেন যেভাবে

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি নবায়ন করা জরুরি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা বিএসপির মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। বিআরটিএর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নবায়নের প্রক্রিয়া পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাইসেন্স নবায়ন করতে যাওয়ার আগে নিজের লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানো হয়।

তবে বর্তমানে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে অনলাইনেও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিএসপির অফিসিয়াল পোর্টালে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন এবং ফি প্রদান করা যায়। ফলে নবায়নের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করতে অনেক ক্ষেত্রেই পোর্টাল ব্যবহার করা সম্ভব।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং আগের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত। বিআরটিএর নবায়ন ও প্রতিলিপির নির্ধারিত ফরমে নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, সর্বশেষ ইস্যু বা নবায়নের তারিখ, রেফারেন্স নম্বর এবং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ফরমে ফি জমার পরিমাণ এবং ট্রানজেকশন নম্বর দেওয়ার ঘরও রয়েছে। অর্থাৎ অনলাইনে বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি দেওয়ার পর পেমেন্টের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরে কোনো সমস্যা হলে ট্রানজেকশন নম্বর বা পেমেন্টের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালেও পেমেন্ট যাচাইয়ের সুবিধা রয়েছে।

অপেশাদার ও পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিআরটিএর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের নবায়নের আগে পুনরায় ব্যবহারিক বা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নবায়নের আবেদন করতে হয়।

পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং রোল নম্বরও নবায়ন ফরমে উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পেশাদার লাইসেন্সধারীদের নবায়নের আগে পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে নির্ধারিত আবেদন ফরম, নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের কপি এবং ফি জমাদানের রশিদ রয়েছে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রয়োজন হতে পারে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, নবায়নের সময় সদ্য তোলা ছবি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন করলে অতিরিক্ত অর্থও দিতে হতে পারে। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত অফিসিয়াল পেজে অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নবায়নের জন্য ২ হাজার ১৮৫ টাকা এবং ১৫ দিন পর প্রতি বছরের জন্য ২০০ টাকা জরিমানার তথ্য দেওয়া হয়েছে। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ১ হাজার ৩২৩ টাকা এবং এরপর প্রতি বছরের জন্য ২০০ টাকা জরিমানার তথ্য রয়েছে। তবে ফি ও বিধিমালা পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার সময় বিএসপিতে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করা উচিত।

অনলাইনে নবায়নের ক্ষেত্রে পেমেন্ট করার সুযোগও রয়েছে। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল অনুযায়ী, বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করা যায় এবং পোর্টালে পেমেন্ট যাচাইয়ের সুবিধাও রয়েছে। তাই টাকা পরিশোধের পর ট্রানজেকশন নম্বর, রসিদ বা পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

বর্তমান সময়ে বিআরটিএর অনলাইন সেবা ব্যবহারের জন্য আবেদনকারীকে নিজের বিএসপি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে হয়। পোর্টালে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, ডুপ্লিকেট লাইসেন্স, লার্নার লাইসেন্স এবং স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। একই জায়গা থেকে ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নির্ধারিত ফি হিসাব করা এবং পেমেন্ট যাচাই করার সুবিধাও পাওয়া যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইসেন্সের তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে শুধু নবায়ন নয়, সংশ্লিষ্ট সেবাটি সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। বিআরটিএর নির্ধারিত ফরমে নবায়নের পাশাপাশি ডুপ্লিকেট, গাড়ির শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন, লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন এবং তথ্য সংশোধনের জন্যও আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, পুরোনো লাইসেন্সের নম্বর, মোবাইল নম্বর, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় ছবি হাতে থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয়। পেশাদার লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার বিষয়টি আলাদাভাবে মাথায় রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজের লাইসেন্সের ধরন, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিতে হবে। এরপর বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে প্রযোজ্য সেবা নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্টের পর তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page