পেশাদার নাকি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, কার জন্য কোনটি প্রযোজ্য

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
পেশাদার নাকি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, কার জন্য কোনটি প্রযোজ্য

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পার্থক্য

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না—তাদের জন্য পেশাদার নাকি অপেশাদার লাইসেন্স প্রয়োজন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন হিসেবে পেশাদার ও অপেশাদার—দুই ধরনের লাইসেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন করার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ধরন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্সের ব্যবহার এবং যোগ্যতার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।

বিআরটিএর অনলাইন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যারা ব্যক্তিগতভাবে নিজের গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স করতে চান, তাদের জন্য অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রযোজ্য। অন্যদিকে পেশা হিসেবে অন্যের মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে পেশাদার বা প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন নির্দেশিকাতেও আবেদনকারীকে লাইসেন্সের ধরন হিসেবে Professional অথবা Non-professional নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বয়সের ক্ষেত্রেও দুই ধরনের লাইসেন্সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিআরটিএর বর্তমান সার্ভিস পোর্টালের ড্রাইভিং লাইসেন্স তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ২০ বছর। ফলে ১৮ বছর বয়স হলেই কেউ পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন—এমনটি নয়।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবার গাড়ির শ্রেণি অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার হালকা লাইসেন্সের জন্য মোটরযানের ওজন ২ হাজার ৫০০ কেজির নিচে এবং আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে। পেশাদার মধ্যম শ্রেণির লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মোটরযানের ওজন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কেজির মধ্যে এবং আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর হতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদার হালকা লাইসেন্স কমপক্ষে তিন বছর ব্যবহার করার শর্ত রয়েছে।

ভারী পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স ও পূর্বের লাইসেন্স ব্যবহারের শর্ত আরও বেশি। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ৫০০ কেজির বেশি ওজনের মোটরযানের জন্য পেশাদার ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২৬ বছর হতে হবে। পাশাপাশি পেশাদার মধ্যম ড্রাইভিং লাইসেন্স কমপক্ষে তিন বছর ব্যবহার করার শর্ত রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ভারী পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ নেই; ধাপে ধাপে নির্ধারিত শ্রেণির লাইসেন্স অর্জন করতে হয়।

বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, পেশাদার ভারী লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রথমে পেশাদার হালকা লাইসেন্স নিতে হয়। সেটি ব্যবহারের কমপক্ষে তিন বছর পর পেশাদার মধ্যম লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়। এরপর মধ্যম লাইসেন্স পাওয়ার কমপক্ষে তিন বছর পর ভারী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তাই যারা ভবিষ্যতে ভারী যানবাহন চালানোর পেশায় যেতে চান, তাদের শুরু থেকেই লাইসেন্সের শ্রেণি ও বয়সের শর্ত সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

অন্যদিকে যারা নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালাবেন এবং পেশাদার চালক হিসেবে অন্যের গাড়ি চালাবেন না, তাদের ক্ষেত্রে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রযোজ্য হতে পারে। বিআরটিএর অনলাইন নির্দেশিকায় লাইসেন্সের ধরন নির্বাচনের সময় Professional ও Non-professional আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের শ্রেণিও নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।

তবে পেশাদার বা অপেশাদার—যে ধরনের লাইসেন্সই নেওয়া হোক, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। এরপর লার্নার লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে নির্ধারিত তারিখে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। বিএসপি পোর্টালে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ও ডুপ্লিকেট লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে ফি ক্যালকুলেটর এবং অনলাইন পেমেন্টের সুবিধাও রয়েছে।

পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু বিষয়ও রয়েছে। বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন হতে পারে। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফি, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্রের কপি এবং অন্যান্য নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে আপনি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি চালাবেন, নাকি পেশা হিসেবে অন্যের গাড়ি চালাবেন। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপেশাদার লাইসেন্স এবং পেশাদার চালক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে। এরপর নিজের বয়স, যানবাহনের শ্রেণি এবং বিআরটিএর নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইসেন্সের ধরন ভুলভাবে নির্বাচন না করা। কারণ পেশাদার হালকা, মধ্যম ও ভারী শ্রেণির ক্ষেত্রে আলাদা বয়স ও পূর্ববর্তী লাইসেন্স ব্যবহারের শর্ত রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিজের জন্য কোন শ্রেণি প্রযোজ্য তা নিশ্চিত করা উচিত। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page