ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে ছবি আপলোডের নিয়ম, সাইজ ভুল হলে কী করবেন

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে ছবি আপলোডের নিয়ম, সাইজ ভুল হলে কী করবেন

বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি আপলোডের নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় শুধু ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করলেই হবে না, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আপলোড করতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের নাগরিক নির্দেশিকায় শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরমে ছবি আপলোডের জন্য নির্দিষ্ট মাপ ও ফাইল সাইজ উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে ছবি প্রস্তুত করে রাখলে অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়তে হবে না।

বিআরটিএর বিএসপি নাগরিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে ব্যবহারের ছবির সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ ১৫০ কিলোবাইট এবং ছবির মাপ ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল। অর্থাৎ আবেদনকারীকে এমন একটি ছবি প্রস্তুত করতে হবে, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩০০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার ১৫০ কিলোবাইটের বেশি নয়।

অনলাইনে আবেদন করার সময় বিএসপির লার্নার লাইসেন্স ফরমে ছবির জন্য আলাদা জায়গা থাকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ওই জায়গায় ছবি যুক্ত করার পর প্রয়োজন হলে ছবির ওপর ক্লিক করে তা পরিবর্তন করা যায়। একই ফরমে মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ বা পাসপোর্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে শুধু ছবি নয়, অন্যান্য ডকুমেন্টও স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখা ভালো। বিআরটিএর নাগরিক নির্দেশিকায় লার্নার লাইসেন্সের ফরমে মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ বা পাসপোর্ট এবং ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করার ধাপ দেখানো হয়েছে।

ছবির ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হতে পারে ফাইলের আকার বেশি হয়ে যাওয়া। ধরুন, আপনার মোবাইল ফোনে তোলা ছবির ফাইল সাইজ ১ বা ২ মেগাবাইট। সেটি সরাসরি আপলোড করতে গেলে ১৫০ কিলোবাইটের সীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই ছবি আপলোডের আগে প্রয়োজন অনুযায়ী ছবির রেজোলিউশন ও ফাইল সাইজ কমিয়ে নিতে হবে। তবে ছবি ছোট করার সময় যেন মুখ অস্পষ্ট হয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

একইভাবে ছবির পিক্সেল মাপও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফাইল সাইজ কমিয়ে দিলেই হবে না; বিআরটিএর নির্দেশিকায় উল্লেখ করা ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল মাপও অনুসরণ করতে হবে। তাই কোনো ছবি এডিট বা রিসাইজ করার সময় ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল সেট করে নেওয়া নিরাপদ।

অনলাইনে আবেদন করার সময় ছবি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে বিএসপির ফরমে থাকা ছবির অংশ ব্যবহার করা যায়। নাগরিক নির্দেশিকায় ছবি যুক্ত করার পর সেটি পরিবর্তনের জন্য ছবির ওপর ক্লিক করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ফলে ভুল ছবি নির্বাচন হয়ে গেলে আবেদন চূড়ান্ত করার আগে তা পরিবর্তন করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে ছবি ঠিক থাকলেও অন্যান্য ডকুমেন্টে ভুল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে আপলোড করা কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা উচিত। বিআরটিএর বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স নির্দেশনায় লার্নার লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ বা পাসপোর্টের কপির কথা উল্লেখ রয়েছে।

ঠিকানার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীকে স্থায়ী ঠিকানা অথবা প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ বর্তমান ঠিকানার আওতাভুক্ত বিআরটিএ সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হয়। অনলাইন আবেদনে ঠিকানার প্রমাণ প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টও সংযুক্ত করতে হতে পারে।

ছবি ও কাগজপত্র প্রস্তুত করার পর আবেদনকারীকে বিএসপি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংশ্লিষ্ট সেবা নির্বাচন করতে হবে। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে বর্তমানে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ও ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি প্রদানের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে পুরো ফরমটি আবার পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে ছবি, নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা সঠিক আছে কি না দেখে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে ফরমটি সংরক্ষণ বা জমা দেওয়ার ধাপে যেতে হবে। বিএসপির নাগরিক নির্দেশিকায় ছবি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর Save বাটনে ক্লিক করার ধাপ দেখানো হয়েছে।

এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—অনলাইনে ছবি আপলোড করতে পারলেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

সুতরাং যারা ঘরে বসে বিআরটিএর মাধ্যমে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে চান, তারা আগে থেকেই একটি পরিষ্কার ছবি প্রস্তুত রাখুন। ছবির মাপ ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোবাইট রাখুন। পাশাপাশি মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় ঠিকানার প্রমাণপত্রও প্রস্তুত রাখুন। এতে বিএসপিতে আবেদন করার সময় ছবি বা ডকুমেন্টের কারণে অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সম্ভাবনা কমবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page