দেশের ডাকসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করেছে সরকার। এখন থেকে সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে চিঠি, পার্সেল এবং ই-কমার্স পণ্যের অবস্থান ট্র্যাক করতে পারবেন। ডাক অধিদপ্তর নতুন ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার (ডিএমএস) চালুর মাধ্যমে এই সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন-পোস্ট অফিসে টাকা রাখার নিয়ম ২০২৬
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ডাকসেবাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নতুন সফটওয়্যার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, নতুন ডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন অনলাইনে তাদের পাঠানো বা গ্রহণযোগ্য চিঠি, পার্সেল এবং ডিজিটাল কমার্স পণ্যের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন। ফলে কোনো পার্সেল কোথায় রয়েছে বা কখন পৌঁছাতে পারে, সে তথ্য জানতে আর ডাকঘরে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হবে না।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ই-কমার্স খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে নির্ভরযোগ্য ট্র্যাকিং ব্যবস্থার চাহিদা অনেক বেড়েছে। নতুন সফটওয়্যার সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ডাকসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।
ডাকসেবার গতি বাড়াতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪টি নতুন মেইল প্রসেসিং অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব আধুনিক কেন্দ্রে চিঠি ও পার্সেল দ্রুত বাছাই, সংরক্ষণ এবং বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পণ্য সংরক্ষণের জন্য চিলিং চেম্বারের সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের নতুন উদ্যোগ এক নজরে
| সেবা/প্রকল্প | সুবিধা |
|---|---|
| ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার (DMS) | অনলাইনে চিঠি ও পার্সেল ট্র্যাকিং |
| নতুন মেইল প্রসেসিং সেন্টার | ১৪টি |
| চিলিং চেম্বার সুবিধা | দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য সংরক্ষণ |
| থার্মাল বক্স | ১,০০০টি সংগ্রহ |
| ডাকঘর নির্মাণ ও সংস্কার | ২৭০টি |
| নতুন ডাকঘর নির্মাণ | ৩৯টি |
ডাক বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার থার্মাল বক্সও সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে মাছ, মাংস, ফল, ওষুধ বা অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য নিরাপদে পরিবহন করা যাবে। ফলে ভবিষ্যতে ডাক বিভাগ শুধু চিঠি পরিবহন নয়, বরং আধুনিক লজিস্টিক সেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে দেশের পুরোনো ডাকঘরগুলো আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শত শত ডাকঘর নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নত ডাকসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডাক বিভাগের সব কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় মেইল প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ এবং স্মার্ট ডাকসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ই-কমার্স ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কারণ এখন পণ্যের অবস্থান রিয়েল-টাইমে জানা সম্ভব হবে, যা অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে আস্থা আরও বাড়াবে।
ডাক বিভাগের এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ডাকসেবা নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আধুনিক লজিস্টিক সুবিধা এবং উন্নত অবকাঠামো একসঙ্গে কাজ করলে ডাক বিভাগ আবারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশ পোস্ট অফিস ট্র্যাকিং ২০২৬










