বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষায়, ২৬টিতেই মিলেছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষায়, ২৬টিতেই মিলেছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাজারের টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণার তথ্য

২১৭

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পরীক্ষিত টুথপেস্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এসডো জানায়, দীর্ঘ এক বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (এফটিআইআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারতে উৎপাদিত ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি ব্র্যান্ডের দুটিতেই এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি টুথপেস্ট নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে এসডো। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৬টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

তবে সব ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জেও এসব ক্ষতিকর কণা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এসডো।

গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে উপাদানের তালিকা যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারি করা প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page