স্মার্টওয়াচ এখন আর শুধু সময় দেখা বা ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার ডিভাইস নয়। ধীরে ধীরে এটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে পরিণত হচ্ছে। হার্ট রেট, ঘুমের মান, রক্তচাপ ও শরীরচর্চার তথ্য পর্যবেক্ষণের পর এবার অজ্ঞান হওয়ার আগাম সংকেত শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে Samsung
আরও পড়ুনঃ এক চার্জে ১২ দিন চলবে রেডমির নতুন স্মার্টওয়াচে থাকছে ১৫০+ ফিটনেস মোড
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিচালিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, স্যামসাংয়ের স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীর অজ্ঞান হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম হতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার Chung-Ang University Gwangmyeong Hospital-এর সহযোগিতায়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল “ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ” নামে পরিচিত একটি শারীরিক অবস্থা শনাক্ত করা। এই সমস্যায় হঠাৎ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে গিয়ে একজন ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
স্যামসাং জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে অজ্ঞান হওয়ার আগাম পূর্বাভাস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটিই বিশ্বের প্রথম সফল গবেষণা। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে European Heart Journal Digital Health-এ।
এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে Samsung Galaxy Watch 6। স্মার্টওয়াচটির পিপিজি বা ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি সেন্সরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি এবং শরীরের বিভিন্ন বায়োসিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় মোট ১৩২ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপের উপসর্গ থাকার সন্দেহ ছিল। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সময় সংগৃহীত তথ্য পরে এআইভিত্তিক একটি প্রেডিকশন মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।
স্যামসাংয়ের দাবি অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি অজ্ঞান হওয়ার প্রায় পাঁচ মিনিট আগেই সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো সিস্টেমটির নির্ভুলতার হার ছিল প্রায় ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া মডেলটির সেনসিটিভিটি ছিল ৯০ শতাংশ এবং স্পেসিফিসিটি ছিল ৬৪ শতাংশ।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভয়, ব্যথা বা আবেগজনিত পরিস্থিতিতে ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ হতে পারে। যদিও এটি সবসময় প্রাণঘাতী নয়, তবে হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত, হাড় ভাঙা বা কনকাশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক জুনহওয়ান চো জানিয়েছেন, আগাম সতর্কতা পেলে রোগীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে, বসে পড়তে অথবা প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে পারবেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফিচার বাজারে উন্মুক্ত করার সময় জানায়নি স্যামসাং, তবে ধারণা করা হচ্ছে ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি ওয়াচ সিরিজে এটি যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব স্মার্টওয়াচে পিপিজি সেন্সর ও হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ধীরে ধীরে আরও স্মার্ট ও প্রতিরোধমূলক হয়ে উঠছে। আর স্যামসাংয়ের এই নতুন গবেষণা সেই পরিবর্তনেরই বড় একটি ইঙ্গিত।
সূত্র: Gadget 360 ও European Heart Journal Digital Health।
আরও পড়ুনঃ- মা দিবসে মাকে দিতে পারেন যেসব স্মার্ট গ্যাজেট
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥









