বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp নতুন একটি প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ফিচার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। “WhatsApp Plus” নামে এই নতুন সাবস্ক্রিপশন মূলত ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশন সুবিধা দেবে, তবে এতে বড় ধরনের নতুন ফাংশনাল পরিবর্তন থাকছে না।
আরও পড়ুন-Apple Watch-এর জন্য WhatsApp চালু | এখন কব্জিতেই WhatsApp চ্যাট ও ভয়েস মেসেজ
প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন সাবস্ক্রিপশনটি অনেকটা Instagram বা Snapchat এর প্রিমিয়াম সংস্করণের মতো। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা টাকা দিয়ে কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন, তবে মূল অ্যাপের ব্যবহারে খুব বড় পরিবর্তন আসবে না।
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাবস্ক্রিপশন সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। যারা নিজেদের অ্যাপ ব্যবহার আরও ব্যক্তিগত ও সাজানোভাবে করতে চান, তাদের জন্যই এটি চালু করা হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের আইকন, চ্যাট থিম, রিংটোন এবং নোটিফিকেশন সাউন্ড কাস্টমাইজ করতে পারবেন।
এছাড়া নতুন এই প্ল্যানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে—চ্যাট পিন করার সীমা বাড়ানো। বর্তমানে ফ্রি ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ তিনটি চ্যাট পিন করতে পারেন, তবে প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা একসঙ্গে ২০টি চ্যাট পিন করার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি কাস্টম লিস্ট তৈরি করার সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে, যা চ্যাট ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সাবস্ক্রিপশনে তেমন কোনো বড় ফিচার বা বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে স্ট্যাটাসে বিজ্ঞাপন বন্ধ করার মতো সুবিধা এতে অন্তর্ভুক্ত নেই, যা অনেক ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা ছিল।
মূলত এই সাবস্ক্রিপশনটি কসমেটিক বা বাহ্যিক কাস্টমাইজেশনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ, অ্যাপের চেহারা ও ব্যবহার অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতভাবে সাজানোর সুযোগ বাড়ানোই এর প্রধান লক্ষ্য।
মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপে এটি মাসে প্রায় ২.৪৯ ইউরো এবং পাকিস্তানে প্রায় ২২৯ পিকেআর হতে পারে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের জন্য এক মাসের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধাও রাখা হতে পারে।
উল্লেখ্য, এক সময় হোয়াটসঅ্যাপ কিছু অঞ্চলে বছরে ১ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি নিত। তবে Meta Platforms অধিগ্রহণের পর ২০১৬ সালে সেই ফি তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্যবসায়িক মেসেজিং ও বিজ্ঞাপন নির্ভর মডেলে এগিয়েছে।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। এই বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তির মধ্যে সীমিত আকারে নতুন এই সাবস্ক্রিপশন চালু করা হচ্ছে। ফলে শুরুতে এটি কোম্পানির আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম সার্ভিসের দিকে এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফিচার যুক্ত হলে এটি বড় আকারের রাজস্ব উৎসে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, “WhatsApp Plus” সাবস্ক্রিপশনটি আপাতত ব্যবহারকারীদের জন্য একটি কাস্টমাইজেশন-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। যদিও এতে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, তবে এটি ভবিষ্যতের নতুন ফিচারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র – TRUETECH
আরও পড়ুন-WhatsApp নাম্বার পরিবর্তন বা মাইগ্রেশন করার নিয়ম(আপডেট)
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









