ব্যাংকের কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা আনার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড এমএফএস হিসাবে যুক্ত করার সময় ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ- বিকাশ-নগদ ব্যবহারকারীদের জন্য এলো নতুন নিয়ম
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো অনলাইন প্রতারণা ও অননুমোদিত লেনদেন কমানো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রথমবার কোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এমএফএস ব্যক্তিগত হিসাবে যুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কার্ডটি স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে নিয়মিত ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন আরেকটি সুবিধা চালু হবে। তখন কার্ডধারী ও এমএফএস হিসাবধারীর নাম একই হলে আলাদা টোকেন লেনদেন ছাড়াই সরাসরি কার্ড যুক্ত করে অ্যাড মানি করা যাবে।
অর্থাৎ একজন গ্রাহকের ব্যাংক কার্ড ও বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্ট একই নামে নিবন্ধিত থাকলে ভবিষ্যতে বাড়তি যাচাই ছাড়াই সহজে টাকা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কার্ড থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বিষয়টিকে আর মার্চেন্ট পেমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে না। এটিকে “ফান্ড ট্রান্সফার” হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
একই সঙ্গে লেনদেনের সময় যে এমএফএস নম্বরে টাকা যাচ্ছে, সেই বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বরও কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দৃশ্যমান রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় ১ আগস্ট থেকে কার্ডের মাধ্যমে এমএফএসে অ্যাড মানি সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, সম্প্রতি প্রতারণার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি হওয়া কার্ডের তথ্য ব্যবহার করেও লেনদেন করা হয়েছে।
এ কারণে গ্রাহক যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। ফলে অনলাইন জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে সমানভাবে। তাই কার্ড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
তারা বলছেন, নতুন নিয়মের ফলে প্রথমদিকে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রাহকদের নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্রঃ- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন।
আরও পড়ুনঃ- বিকাশ পেমেন্ট স্পিকার কীভাবে কাজ করে?নতুন ডিজিটাল লেনদেন প্রযুক্তি










