আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ওয়াইফাই সিগনালেই চার্জ হবে ফোন? দুই বাংলাদেশি গবেষকের চমকপ্রদ প্রযুক্তি

April 27, 2026 10:11 AM
ওয়াইফাই সিগনালেই চার্জ হবে ফোন

ওয়াইফাই সিগনালের মাধ্যমেই মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করার যুগ কি তবে সত্যিই চলে আসছে? প্রযুক্তি বিশ্বে এমন এক চমকপ্রদ উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক, যা সফল হলে ভবিষ্যতের চার্জিং ধারণাকেই পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। নিউ জিল্যান্ডে বসবাসরত ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইয়ুশা আরাফ এই প্রকল্পে কাজ করছেন, যেখানে তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানি ‘রিজোলিংক’ (Rizolink) ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ- ইন্টারনেট ছাড়াই AI ব্যবহার! Google AI Edge Gallery কী এবং কিভাবে কাজ করে

বর্তমান সময়ে আমরা যে ওয়্যারলেস চার্জিং ব্যবহার করি, তা মূলত শর্ট-রেঞ্জ প্রযুক্তি—যেখানে ডিভাইসকে চার্জিং প্যাডের ওপর রাখতে হয়। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তির লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে ওয়াইফাই সিগনালের মাধ্যমেই দূর থেকে ডিভাইসে শক্তি পাঠানো সম্ভব হবে, ফলে কোনো তার, চার্জার বা চার্জিং প্যাডের প্রয়োজনই থাকবে না। অর্থাৎ আপনি ঘরে বসে ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন—এবং একই সঙ্গে আপনার ফোন চার্জও হয়ে যাচ্ছে, এমন বাস্তবতা তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এই প্রযুক্তির পেছনে মূল ধারণা হলো ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার—যেখানে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। গবেষকরা এমন একটি সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছেন, যা বিদ্যমান ওয়াইফাই অবকাঠামোর মাধ্যমেই ডিভাইস চার্জ করতে পারবে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ‘স্মার্ট পাওয়ার বক্স’ নামে একটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন, যা ভবিষ্যতে শিল্প পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য একটি সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

রিজোলিংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির জন্য গবেষণাভিত্তিক সমাধান তৈরি করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি শুধু স্মার্টফোন নয়—বরং আইওটি (IoT) ডিভাইস, স্মার্ট হোম সিস্টেম, এমনকি স্মার্ট হাসপাতালেও ব্যবহার করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ, হাসপাতালের বিভিন্ন সেন্সর বা মেডিক্যাল ডিভাইস যদি ওয়্যারলেসভাবে চার্জ হতে পারে, তাহলে তারের ঝামেলা কমবে এবং নিরাপত্তা বাড়বে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এটি ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। প্রতিদিন ফোন চার্জে লাগানো, চার্জার বহন করা বা ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা—এসব বিষয় অনেকটাই অতীত হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এটি শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে পারে, কারণ নির্দিষ্ট ডিভাইসে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব ব্যবহারের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে শক্তি ট্রান্সফারের দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। ওয়াইফাই সিগনালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে তা মানুষের শরীর বা অন্যান্য ডিভাইসে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা—এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে এটি শুধু চার্জিং সিস্টেম নয়—বরং পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে নতুনভাবে গড়ে তুলবে। স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় ঘরবাড়ি, এবং ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) ভিত্তিক জীবনধারায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিদেশে অবস্থান করলেও এই দুই গবেষকের চিন্তা ও পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ। তারা চান, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ বাংলাদেশেই শুরু হোক এবং দেশের প্রযুক্তিখাত আরও এগিয়ে যাক। তাদের এই উদ্যোগকে অনেকেই বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে একটি সম্ভাবনাময় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ডিভাইস চার্জ করার এই ধারণা এখনো গবেষণার পর্যায়ে থাকলেও এটি বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন আমূল বদলে যেতে পারে। তারহীন শক্তি সরবরাহের এই নতুন যুগ হয়তো খুব দূরে নয়—আর সেই পথচলায় বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের এই অবদান নিঃসন্দেহে গর্বের।

আরও পড়ুনঃ- এআই চিপ যুদ্ধ শুরু ইলন মাস্কের টেরাফ্যাবে যুক্ত হয়ে চমক দিল ইন্টেল

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now