আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত এবং তথ্যভিত্তিক করার লক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং ১৫০ সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) বাধ্যতামূলক করা।
প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং ও যানবাহন নিবন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় টিন নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে টিন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
আরও পড়ুন-স্বর্ণ কিনতে বাড়তে পারে খরচ, জুয়েলারি খাতে আসছে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর নেট সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনেক নাগরিক বিভিন্ন আর্থিক সেবা ব্যবহার করলেও কর ব্যবস্থার আওতায় আসছেন না। নতুন এই নিয়মের ফলে সেই চিত্র পরিবর্তনের আশা করছে সরকার।
১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য নতুন শর্ত
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, ১৫০ সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিন নম্বর বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ কেউ যদি ১৬০ সিসি, ২০০ সিসি, ২৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল কিনে বিআরটিএতে নিবন্ধন করতে চান, তাহলে তাকে বৈধ টিন সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে এই খাতে আর্থিক তথ্য সংরক্ষণ ও কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য নতুন এই শর্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যাংক হিসাবেও লাগবে টিন নম্বর
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব খোলা বা পরিচালনার ক্ষেত্রেও টিন নম্বরের গুরুত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের তথ্য আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে কর তথ্যের সমন্বয় হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কর ফাঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
যারা পাবেন বিশেষ ছাড়
তবে সব নাগরিকের জন্য এই বাধ্যবাধকতা সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বাজেটে কয়েকটি শ্রেণিকে টিন নম্বরের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাড়প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—
• শিক্ষার্থী।
• সরকারি ভাতাভোগী।
• পেনশন সুবিধাভোগী।
সরকার মনে করছে, এসব শ্রেণির মানুষের অনেকেই নিয়মিত আয়করযোগ্য আয়ের আওতায় পড়েন না। তাই তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ টিন সার্টিফিকেট?
টিন বা Taxpayer Identification Number হলো করদাতার একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর। বর্তমানে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ই-টিন নিবন্ধন করা যায়। টিন নম্বর থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া, ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ তুলনামূলক সহজ হয়।
নতুন বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে টিন সার্টিফিকেটের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও যানবাহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংসদে পাস হওয়ার পর নতুন বিধানগুলো কার্যকর হলে ব্যাংক হিসাব ও ১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিন নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পরিণত হবে।
সূত্র: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭
আরও পড়ুন-নতুন বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আগাম আয়কর আরোপ করা হচ্ছে না










