দেশের জুয়েলারি শিল্পে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে স্বর্ণ ও জুয়েলারি খাতের জন্য ফিক্সড ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হতে পারে গ্রাহকদের।
আরও পড়ুন-নতুন বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আগাম আয়কর আরোপ করা হচ্ছে না
বর্তমানে দেশের স্বর্ণ বাজারে অলংকারের মূল্য নির্ধারণে স্বর্ণের দাম, মজুরি, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে নতুন ভ্যাট কাঠামো কার্যকর হলে ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিক্সড ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসার হিসাব-নিকাশও আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি অংশ মনে করছে, অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রেতাদের ওপর পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন ভ্যাট ব্যবস্থার আলোচনা শুরু হওয়ায় অনেক ক্রেতা ভবিষ্যতের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, জুয়েলারি খাতে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ব্যবসায়ী সংগঠন, বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে কোনো নতুন কর বা ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর আগে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, দেশের অনেক পরিবারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে এই খাতে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত সরাসরি বাজার ও ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বাজেটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, নতুন ভ্যাট কাঠামো কার্যকর হলে স্বর্ণের দাম কতটা বাড়তে পারে এবং একজন সাধারণ ক্রেতাকে অতিরিক্ত কত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবুও প্রস্তাবটি নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষের আগ্রহ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ফিক্সড ভ্যাট ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত হার ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই বাজেট ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র:একাত্তর বিজনেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন
আরও পড়ুন-ছোট দোকান ও হোটেলেও আসছে নতুন কর ব্যবস্থা, মাসে দিতে হতে পারে নির্ধারিত ভ্যাট








