ঘুমানোর আগে এই ৩টি আমল করলে কী ঘটে?

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
ঘুমানোর আগে এই ৩টি আমল করলে কী ঘটে?

ঘুমের আগে ছোট ৩টি সুন্নত আমল আনতে পারে আত্মিক প্রশান্তি

দিনভর ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি ও নানা চিন্তার পর রাতের ঘুম মানুষের জন্য আল্লাহর এক বড় নিয়ামত। কিন্তু ইসলামে ঘুম শুধু শরীরের বিশ্রাম নয়, বরং এটি একটি ইবাদতপূর্ণ মুহূর্তও হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল করতেন এবং উম্মতকেও সেগুলো শিখিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, এসব আমল করলে অলৌকিক কিছু ঘটবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এমন অতিরঞ্জিত ধারণা সঠিক নয়। তবে সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, এসব আমল মানুষের জন্য সওয়াব, মানসিক প্রশান্তি, আল্লাহর হেফাজত এবং আত্মিক উপকারের কারণ হতে পারে।

ঘুমানোর আগে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আয়াতুল কুরসি পড়া। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে, আল্লাহ তার জন্য একজন রক্ষক নিয়োজিত করেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারে না। (সহিহ বুখারি) অনেক মানুষ এই আমলটিকে অবহেলা করেন, অথচ এটি খুবই সহজ। আয়াতুল কুরসি পড়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর একত্ব, ক্ষমতা ও হেফাজতের ওপর ভরসা প্রকাশ করেন। এটি কেবল মুখে পড়া নয়, বরং অন্তরে বিশ্বাসের প্রকাশ।

দ্বিতীয় আমল হলো সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) প্রতি রাতে এই তিনটি সুরা পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিতেন এবং শরীরের যতটুকু সম্ভব মুছে নিতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) এই আমলের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে অকল্যাণ, হিংসা, কুদৃষ্টি ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। এখানে মনে রাখতে হবে, ইসলামে কোনো তাবিজি বা কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাস নেই; বরং কোরআনের দোয়া ও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াই মূল বিষয়।

তৃতীয় আমল হলো ঘুমের দোয়া পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে এ দোয়া পড়তেন:

“আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।”

অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং আপনার নামেই আমি জীবিত হই।”

এই ছোট দোয়াটি মানুষের অন্তরে এক গভীর উপলব্ধি সৃষ্টি করে—ঘুম এক অর্থে মৃত্যুর মতো, আর জেগে ওঠা নতুন জীবনের মতো। তাই একজন মুমিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে।

অনেকে প্রশ্ন করেন, এই তিনটি আমল করলে কী ঘটে? সহিহ সূত্র অনুযায়ী বলা যায়—আল্লাহর হেফাজতের আশা করা যায়, শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা লাভের আশা করা যায়, অন্তরে প্রশান্তি আসে, আল্লাহর স্মরণে ঘুম হয় এবং সুন্নতের অনুসরণ করার সওয়াব পাওয়া যায়। তবে এটি বলা ঠিক হবে না যে, এসব আমল করলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে বা নিশ্চয়ই বিশেষ পার্থিব ফল পাওয়া যাবে। ইসলামে ফলাফলের মালিক একমাত্র আল্লাহ।

ঘুমানোর আগে আরও কিছু সুন্নত রয়েছে, যেমন ডান কাতে শোয়া, ওজু করে ঘুমানো এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করা। বিশেষ করে ওজু অবস্থায় ঘুমানো সম্পর্কে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষ পবিত্র অবস্থায় রাত কাটায় এবং ইবাদতের মানসিকতা বজায় থাকে।

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, কিন্তু কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এই তিনটি আমল করলে রাতটি আরও অর্থবহ হতে পারে। এটি কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আল্লাহর স্মরণে দিনের সমাপ্তি ঘটানোর একটি সুন্দর উপায়। একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় শান্তি হলো—সে ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং তাঁর কাছেই নিজেকে সোপর্দ করেছে।

আজকের শিক্ষা: ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ুন, তিন কুল পড়ে শরীরে ফুঁ দিন এবং ঘুমের দোয়া পড়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে শুয়ে পড়ুন। অল্প সময়ের এই সুন্নত আমলগুলো আপনার রাতকে আরও প্রশান্ত, পবিত্র ও বরকতময় করতে সাহায্য করতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page