নতুন নিয়মে আয়কর হিসাব করবেন যেভাবে, জেনে নিন

SSIT BARI DESK
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
নতুন নিয়মে আয়কর হিসাব করবেন যেভাবে, জেনে নিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কর স্ল্যাব অনুযায়ী প্রথম ৪ লাখ টাকা আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর কাঠামোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং নতুন কর স্ল্যাব কার্যকর করা। এর ফলে নিম্ন আয়ের অনেক করদাতা করমুক্ত সুবিধা পাবেন, আবার মধ্য ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে কর পরিশোধ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন অর্থবছরের জন্য যে কর স্ল্যাব নির্ধারণ করেছে, তাতে একজন সাধারণ ব্যক্তির প্রথম ৪ লাখ টাকা বার্ষিক আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে কোনো আয়কর দিতে হবে না। আগের অর্থবছরে এই সীমা ছিল ৩ লাখ টাকা। নতুন অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা এক লাখ টাকা বাড়ানো হওয়ায় নিম্ন আয়ের করদাতারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, করযোগ্য আয়ের প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কোনো কর দিতে হবে না। এরপরের ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কারও করযোগ্য আয় যদি ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়, তাহলে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত থাকবে এবং পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর হিসাব করা হবে।

এরপরের ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাৎ বার্ষিক করযোগ্য আয় ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে প্রথম ৭ লাখ টাকার পরবর্তী অংশে ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে।

এরপরের ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে এই ধাপটি কার্যকর হবে।

পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর ৩৬ লাখ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অংশের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ আয় যত বাড়বে, করের হারও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।

সহজভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, যদি কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা হয়, তাহলে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত থাকবে। বাকি ২ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আবার কারও আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়, তাহলে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত থাকবে, পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর গণনা করা হবে।

নতুন কর স্ল্যাবের ফলে বিভিন্ন আয়ের মানুষের করের পরিমাণেও পরিবর্তন এসেছে। উদাহরণ হিসেবে, মাসিক ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি বা বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে করের আওতায় আসতে হবে। বছরে ৬ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগের মতোই ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। আবার ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রেও করের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করের পরিমাণও বেড়েছে। বছরে সাড়ে ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি কর দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা বার্ষিক আয়ে কর বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে ১২ লাখ, ১৫ লাখ, ১৮ লাখ এবং ২০ লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে করের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করায় বছরে ঠিক ৪ লাখ টাকা আয় করা ব্যক্তিদের আর কোনো আয়কর দিতে হবে না। আগে যেখানে এই আয়ের একটি অংশ করযোগ্য ছিল, এখন তা সম্পূর্ণ করমুক্ত হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের করযোগ্য আয় ও করহার (নতুন স্ল্যাব)

করযোগ্য আয় করহার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা শূন্য
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা ১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা ১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা ২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা ২৫%
অবশিষ্ট অংশ ৩০%

নতুন ও আগের করের তুলনা (২০২৫-২৬ বনাম ২০২৬-২৭)

মাসিক আয় বার্ষিক আয় আগের কর (২০২৫-২৬) নতুন কর (২০২৬-২৭) পার্থক্য
৩৩,৩৩৩ টাকার বেশি ৪ লাখ+ ৫০০০ টাকা ০ টাকা -৫০০০ (হ্রাস)
৫০,০০০ টাকা ৬ লাখ ২০,০০০ ২০,০০০ কোনো পরিবর্তন নেই
৫৮,৩৩৩ টাকা ৭ লাখ ৩০,০০০ ৩০,০০০ কোনো পরিবর্তন নেই
৬২,৫০০ টাকা ৭.৫০ লাখ ৩৫,০০০ ৩৭,৫০০ +২,৫০০ (বৃদ্ধি)
৮৩,৩৩৩ টাকা ১০ লাখ ৬৭,৫০০ ৭৫,০০০ +৭,৫০০ (বৃদ্ধি)
১,০০,০০০ টাকা ১২ লাখ ৯৭,৫০০ ১,১০,০০০ +১২,৫০০ (বৃদ্ধি)
১,২৫,০০০ টাকা ১৫ লাখ ১,৫০,০০০ ১,৭০,০০০ +২০,০০০ (বৃদ্ধি)
১,৫০,০০০ টাকা ১৮ লাখ ২,১০,০০০ ২,৪০,০০০ +৩০,০০০ (বৃদ্ধি)
১,৬৬,৬৬৭ টাকা ২০ লাখ ২,৫৮,৫০০ ২,৯১,০০০ +৩২,৫০০ (বৃদ্ধি)

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কর কাঠামোর মাধ্যমে সরকার একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমিয়েছে, অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি আয় করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এতে করব্যবস্থা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা চালু থাকায় করদাতারা ঘরে বসেই সহজে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। নতুন কর স্ল্যাব অনুযায়ী আয় হিসাব করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা বা জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

কর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নতুন অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের আগে নিজের বার্ষিক আয়, করমুক্ত সীমা এবং নতুন কর স্ল্যাব ভালোভাবে বুঝে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নিয়ে সঠিকভাবে কর হিসাব করলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে না।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কর কাঠামোতে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি যেমন সাধারণ করদাতাদের জন্য ইতিবাচক খবর, তেমনি উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন কর স্ল্যাব অনুযায়ী কিছুটা বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। তাই নতুন নিয়ম অনুযায়ী কর হিসাব করে সময়মতো রিটার্ন দাখিল করাই হবে একজন সচেতন করদাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন