৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি, তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব পণ্য

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি, তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব পণ্য

বাজার নিয়ন্ত্রণে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি এবার ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সংস্থাটি।

টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থা বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

কিনবে ২২ কোটি লিটার তেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন ডাল

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য টিসিবি একটি বড় ক্রয় পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায়—

  • ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল।
  • ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল।
  • ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি।
  • ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা।
  • ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর।

কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবি জানিয়েছে, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদাম মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বাড়ানো হচ্ছে গুদাম সক্ষমতা

বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়া করা।

এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

ভবিষ্যতে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান।

ভর্তুকি কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রির পরিকল্পনা

টিসিবি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমাতে চায়।

ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, যা বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিতে পারে।

তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি।

বাড়ছে পণ্যের তালিকা

ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি।

ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হবে। তবে নতুন এসব পণ্যের জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড, আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

টিসিবি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে কাজ করছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালি কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করার সুযোগ

টিসিবি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে ভবিষ্যতে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব হবে।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, অন্য সরকারি সংস্থাগুলোও চাইলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়াই টিসিবির মূল লক্ষ্য।

সূত্র: বাসস

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page