অপ্রতিম হত্যা মামলায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, সামনে এলো পুরোনো ঘটনা

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
অপ্রতিম হত্যা মামলায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, সামনে এলো পুরোনো ঘটনা

দেড় বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হয়েছিল অপ্রতিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফাহাদ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ প্রায় দেড় বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক হয়েছিল। পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের এ পর্যায়ে প্রতিশোধের কারণে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের অন্য কারণও সামনে এসেছে বলে এর আগে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ ফাহাদসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম। অভিযানে সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন। পরে জব্দ করা গাঁজা ধ্বংস করা হয়।

আটক কিশোরদের সবাই ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, সাইফুল ইসলাম তুহিন ও কামরুল হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। চতুর্থ আসামি সিয়াম জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়নি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিকের দোকানে কাজ নিয়েছিল ফাহাদ। অপ্রতিমের বাবা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ২০২৫ সালে তার স্ত্রী ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া কিশোরদের একজনই এই ফাহাদ। বিভিন্ন সূত্রেও ফাহাদের ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তথ্য এসেছে।

এদিকে অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। তার দাবি, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তার ছেলেকে অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

নাহিদা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সেই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে যদি তার ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত নির্মম ঘটনা। তার কোনো দায় থাকলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু তার সন্তানকে কেন হত্যা করা হলো—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অপ্রতিম এসব অপরাধের বিষয়ে কিছুই বুঝত না। তাকে অপরাধীদের সঙ্গে জড়িয়ে একটি ভিন্ন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদা বেগম বলেন, তিনি শুধু নিজের ছেলের হত্যার বিচার চান না; যারা এ ঘটনায় জড়িত, তারা ভবিষ্যতে সমাজে ফিরে গেলে আরও শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এ নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় পুরোনো মাদকবিরোধী অভিযানে ফাহাদের আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এলেও, ওই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার কথা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page