সময়ের হিসাব মেলেনি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর শাস্তি শ্রীলঙ্কার

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
সময়ের হিসাব মেলেনি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর শাস্তি শ্রীলঙ্কার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ধীর ওভার রেটের কারণে জরিমানার মুখে শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং ইনিংস শেষ করতে না পারায় শাস্তির মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। চেস্টার-লে-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ধীর ওভার রেটের কারণে শ্রীলঙ্কা দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের হিসাব ও প্রাপ্য সময়-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার পর দেখা যায়, শ্রীলঙ্কা তিন ওভার পিছিয়ে ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কম ওভারের জন্য ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ করে জরিমানা হওয়ায় তিন ওভারের ঘাটতির জন্য মোট ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেতে। ম্যাচটি ইংল্যান্ডের চেস্টার-লে-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২৬৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি এবং ১৭৬ রানেই তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ড ৮৯ রানের ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয়। ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার ধীর ওভার রেটও আলোচনায় আসে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভার শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইসিসি ধীর ওভার রেটের জন্য শাস্তির বিধান রেখেছে। এই নিয়মের আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত ওভার কম করা হয়, প্রতিটি ওভারের জন্য সংশ্লিষ্ট দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়। তবে ম্যাচ চলাকালীন বিভিন্ন অনুমোদিত কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে সেটিও হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও এসব সময়-সুবিধা বিবেচনা করার পর তাদের তিন ওভার কম পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে দলের ধীর ওভার রেটের দায় স্বীকার করতে হয়। তিনি অভিযোগ মেনে নিয়েছেন এবং আইসিসির দেওয়া শাস্তিও গ্রহণ করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়নি। আইসিসির আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। ম্যাচ রেফারির মূল্যায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের হিসাবের ভিত্তিতেই জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

শ্রীলঙ্কার জন্য এই জরিমানা ম্যাচের ফলাফলের বাইরে আরেকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি ওয়ানডে ম্যাচে বোলিং দলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে হয়। ফিল্ডিং পরিবর্তন, বোলার পরিবর্তন, ব্যাটসম্যানের কারণে বিলম্ব কিংবা অন্যান্য পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট হলে সেটি দলের নির্ধারিত ওভার রেটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধীর ওভার রেটের কারণে ম্যাচ ফির জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কঠোর শাস্তির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সও তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। স্বাগতিকরা ২৬৫ রান সংগ্রহ করার পর শ্রীলঙ্কাকে শুরু থেকেই চাপে রাখে। রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং দলীয় লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং ১৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। এতে ইংল্যান্ড ৮৯ রানের জয় পায়। ম্যাচে হারের পর ধীর ওভার রেটের জরিমানা শ্রীলঙ্কার জন্য অতিরিক্ত একটি নেতিবাচক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এই ঘটনা থেকে শ্রীলঙ্কা দলের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার সম্পন্ন করার গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের গতি ও সময়সূচি ঠিক রাখতে আইসিসির এই নিয়ম নিয়মিতভাবে কার্যকর করা হয়। শ্রীলঙ্কা তিন ওভার পিছিয়ে থাকায় তাদের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা হয়েছে। কুশল মেন্ডিস অভিযোগ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তিও দ্রুত হয়েছে। এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং ইনিংস শেষ করতে পারে কি না, সেটিও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page