PCOS থাকলেও গর্ভধারণ সম্ভব, আগে যেসব প্রস্তুতি জরুরি
PCOS থাকলে গর্ভধারণের আগে রক্তে শর্করা, রক্তচাপ, ওজন, ফোলিক অ্যাসিড ও ওষুধসহ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS থাকলে গর্ভধারণ অসম্ভব—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সসহ কিছু বিষয় গর্ভধারণ ও গর্ভাবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে আগে থেকেই কিছু বিষয় গুছিয়ে নেওয়া ভালো। আন্তর্জাতিক PCOS গাইডলাইনেও গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য ও ঝুঁকির বিষয়গুলো মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গাইনি বা ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে মাসিকের ধরন, ডিম্বস্ফোটন, আগের চিকিৎসা, অন্য কোনো রোগ এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ পর্যালোচনা করা যেতে পারে। PCOS-এর পাশাপাশি থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেগুলোও গর্ভধারণের আগে নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। PCOS থাকলে বয়স বা ওজন নির্বিশেষে গ্লুকোজের সমস্যা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে ৭৫ গ্রাম ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট বা OGTT করার পরামর্শ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ফাস্টিং গ্লুকোজ বা HbA1c-ও বিবেচনা করতে পারেন।
রক্তচাপও পরীক্ষা করা উচিত। PCOS থাকা নারীদের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার আগে রক্তচাপ পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রণে আনা ভালো।
ওজন ও জীবনযাপনের দিকে নজর দিন। গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। তবে PCOS থাকলেই সবার ওজন কমানো জরুরি—এমন নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এড়ানো। আন্তর্জাতিক গাইডলাইনেও ওজন, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ঘুমকে গর্ভধারণ-পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফোলিক অ্যাসিড শুরু করার বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করুন। গর্ভধারণের আগে ফোলেট গ্রহণ শিশুর নিউরাল টিউবের জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। PCOS গাইডলাইনে গর্ভধারণের আগে ফোলেট সাপ্লিমেন্টেশনের কথা বলা হয়েছে; BMI ৩০-এর বেশি হলে কিছু ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার ফোলেট প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের মতো ডোজ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। গর্ভধারণের পরিকল্পনার সময় ধূমপান, অ্যালকোহল এবং অপ্রয়োজনীয় মাদক এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে নিয়মিত যেসব ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন, সেগুলোর তালিকা চিকিৎসককে জানানো জরুরি—কারণ কিছু ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নাও হতে পারে।
PCOS-এর কারণে যদি মাসিক অনিয়মিত হয় বা নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন না ঘটে, তাহলে গর্ভধারণে সময় বেশি লাগতে পারে। এমন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে ডিম্বস্ফোটন বাড়ানোর চিকিৎসা দেওয়া যায়; PCOS-জনিত অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটনজনিত বন্ধ্যাত্বে letrozole প্রথম সারির ওষুধ হিসেবে আন্তর্জাতিক গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, PCOS থাকলেই গর্ভধারণে সমস্যা হবে বা গর্ভাবস্থা জটিল হবে—এমন নয়। তবে PCOS-এর সঙ্গে গর্ভাবস্থায় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, গর্ভপাতসহ কিছু জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবনযাপন ঠিক করা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এগোনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
