ডায়াবেটিস থাকলেও কি মিষ্টি খাওয়া যায়? জেনে নিন সঠিক সময়

লাইফস্টাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
ডায়াবেটিস থাকলেও কি মিষ্টি খাওয়া যায়? জেনে নিন সঠিক সময়

সঠিক সময় ও পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ে সচেতন অনেকেই মনে করেন, মিষ্টি মানেই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। শুধু মিষ্টি খেলেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে—এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। বরং কখন, কীভাবে এবং কতটা মিষ্টি খাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন শুধু মিষ্টিই একমাত্র কারণ নয়?

রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ভর করে অনেক বিষয়ের ওপর। যেমন— খাবারের ধরন, পরিমাণ, খাবারের সঙ্গে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন, শারীরিক কার্যক্রম, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা । তাই একই পরিমাণ মিষ্টি দুই ব্যক্তির শরীরে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

দিনের শুরুতে মিষ্টি খাওয়া তুলনামূলক ভালো হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে শরীরের ইনসুলিন তুলনামূলক ভালোভাবে কাজ করে। তাই সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবারের পর পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খেলে শরীর তা তুলনামূলক ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে, রাতের দিকে বা ঘুমানোর আগে বেশি মিষ্টি খেলে অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে।তাই সম্ভব হলে রাতের খাবারের পর ভারী ডেজার্ট এড়িয়ে চলাই ভালো।

খালি পেটে নয়, খাবারের পরে মিষ্টি খান

খালি পেটে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, প্রথমে— শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (মাছ, মাংস, ডিম, ডাল), স্বাস্থ্যকর চর্বি । খাওয়ার পর অল্প পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া ভালো। এতে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে পারে।

এই অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, প্রি-ডায়াবেটিস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও উপকারী হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে ফল ভিন্ন হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট বেছে নিন

সব ধরনের মিষ্টি একই রকম নয়। অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ডেজার্ট বেছে নেওয়া ভালো।

যেমন— মৌসুমি ফল, টক দই, চিয়া সিড, ওটস, বাদাম, খেজুর (পরিমিত পরিমাণে), অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট । এসব খাবারে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকায় এগুলো তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি

মিষ্টি স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। একবারে বেশি না খেয়ে ছোট পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে ক্যালোরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করুন

খাবারের পর ১০ থেকে ২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সুবিধা পায়। এটি অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

নিচের সমস্যাগুলোর কোনোটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করবেন না—ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, PCOS ।

মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন