গ্যাস ও অ্যাসিডিটির অস্বস্তি কমাতে পান করুন এই ৭ পানীয়
কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা ও গ্যাসের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে
বুকজ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চা-কফি কিংবা মানসিক চাপের কারণেও এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় হজমে সহায়তা করতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা বা গ্যাসের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
১. কুসুম গরম পানি
দিনের শুরুতে বা খাবারের কিছুক্ষণ পরে কুসুম গরম পানি পান করলে হজমে সহায়তা করতে পারে। এটি পাকস্থলীর অস্বস্তি কমাতেও অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।
২. আদা চা
আদায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান বমিভাব ও হজমের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। হালকা আদা দিয়ে তৈরি চা গ্যাসের সমস্যা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত আদা সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।
৩. মৌরি ভেজানো পানি
মৌরি দীর্ঘদিন ধরেই হজমে সহায়ক ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মৌরি ভেজানো পানি অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও হালকা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. নারকেলের পানি
প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ নারকেলের পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অ্যাসিডিটির অস্বস্তি কমাতেও উপকারী হতে পারে।
৫. ক্যামোমাইল চা
ক্যামোমাইল চা মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি হজমে স্বস্তি দিতে পারে। তবে যাদের নির্দিষ্ট ভেষজে অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি পান করার আগে সতর্ক থাকা উচিত।
৬. অ্যালোভেরা জুস (পরিমিত পরিমাণে)
পরিশোধিত ও খাবার উপযোগী অ্যালোভেরা জুস কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৭. পুদিনা পানি (সতর্কতার সঙ্গে)
পুদিনা অনেকের হজমে স্বস্তি দিলেও যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স (GERD) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এটি পান করা উচিত।
বুকজ্বালা ও গ্যাস কমাতে আরও যা করবেন
১। অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান।
২। অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার কম খান।
৩। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না।
৪। ধূমপান ও অতিরিক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
৫। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত হাঁটুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি বুকজ্বালা বা গ্যাসের সমস্যা সপ্তাহে একাধিকবার হয়, গিলতে কষ্ট হয়, বুকে তীব্র ব্যথা, রক্তবমি, কালো পায়খানা বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এসব উপসর্গ অন্য কোনো গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
