প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোড: ব্যালেন্স, ইউনিট ও ভোল্টেজ দেখার নিয়ম

প্রকাশিত: 09-06-2026 2:39 AM
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোড

র্তমানে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। এই মিটারের অন্যতম সুবিধা হলো গ্রাহক নিজেই নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং যেকোনো সময় ব্যালেন্স, ইউনিট ও খরচের তথ্য জানতে পারেন। তবে অনেকেই জানেন না যে মিটারের কিপ্যাডে নির্দিষ্ট কিছু কোড ডায়াল করেই খুব সহজে এসব তথ্য দেখা যায়।

আরও পড়ুন-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরই নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত, কমতে পারে লাখো গ্রাহকের বিল

প্রিপেইড মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোডগুলো জানা থাকলে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। একই সঙ্গে ব্যালেন্স শেষ হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধাও ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এই গাইডে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোডগুলো এবং সেগুলোর ব্যবহার বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

এক নজরে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোড

কাজের ধরন কোড
মিটার ব্যালেন্স চেক 801
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স 810
অবশিষ্ট ইউনিট দেখুন 800
বর্তমান লোড (কিলোওয়াট) 869
মিটার নম্বর দেখুন 100
গত মাসের খরচ 702
চলতি মাসের খরচ 922
অ্যালার্ম বন্ধ 812
বর্তমান ভোল্টেজ 807
মিটার চালু/বন্ধ 868

মিটার ব্যালেন্স চেক করার কোড

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বর্তমান ব্যালেন্স জানার। অনেক সময় ব্যালেন্স কমে গেলেও তা খেয়াল করা হয় না, ফলে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিয়মিত ব্যালেন্স চেক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিটারের বর্তমান ব্যালেন্স জানতে কিপ্যাডে 801 লিখে Enter বাটন চাপুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডিসপ্লেতে অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ দেখা যাবে।

কোড: 801

ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার কোড

অনেক সময় রাতের বেলা বা ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে রিচার্জ করা সম্ভব হয় না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

যেসব মিটারে এই সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলোতে 810 কোড ব্যবহার করে জরুরি ব্যালেন্স নেওয়া যায়। পরবর্তীতে নতুন রিচার্জ করলে সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যায়।

কোড: 810

অবশিষ্ট ইউনিট দেখার কোড

শুধু ব্যালেন্স জানলেই যথেষ্ট নয়, বর্তমানে কত ইউনিট বিদ্যুৎ অবশিষ্ট আছে সেটাও জানা জরুরি। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

মিটারে 800 কোড লিখে Enter চাপলে অবশিষ্ট ইউনিটের পরিমাণ দেখা যাবে।

কোড: 800

বর্তমান লোড বা কিলোওয়াট দেখার কোড

আপনার বাসা বা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কত লোড ব্যবহার হচ্ছে তা জানতে চাইলে এই কোডটি কাজে লাগবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের কারণ খুঁজে বের করতে এটি বেশ কার্যকর।

বর্তমান লোড দেখতে মিটারে 869 কোড ব্যবহার করুন।

কোড: 869

মিটার নম্বর দেখার কোড

অনেক সময় বিকাশ, নগদ কিংবা অনলাইন মাধ্যমে রিচার্জ করার সময় মিটার নম্বর প্রয়োজন হয়। আবার অভিযোগ বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও মিটার নম্বর দরকার হতে পারে।

মিটারের নম্বর দেখতে 100 কোড লিখে Enter চাপুন।

কোড: 100

গত মাসের বিদ্যুৎ খরচ দেখার কোড

আপনি গত মাসে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন বা কত টাকা খরচ হয়েছে তা জানতে চাইলে এই কোডটি ব্যবহার করতে পারবেন।

মিটারে 702 কোড ডায়াল করলে গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখা যাবে।

কোড: 702

চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ দেখার কোড

মাস শেষ হওয়ার আগেই বর্তমান মাসে কত বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে তা জানলে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

চলতি মাসের খরচ দেখতে 922 কোড ব্যবহার করুন।

কোড: 922

মিটারের অ্যালার্ম বন্ধ করার কোড

ব্যালেন্স কমে গেলে অনেক প্রিপেইড মিটার সতর্কতামূলক শব্দ বা অ্যালার্ম দিতে শুরু করে। কখনও কখনও এই শব্দ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

সাময়িকভাবে অ্যালার্ম বন্ধ করতে 812 কোড ব্যবহার করা যায়।

কোড: 812

বর্তমান ভোল্টেজ দেখার কোড

বাসায় ভোল্টেজ কম বা বেশি হলে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভোল্টেজ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান ভোল্টেজ জানতে মিটারে 807 কোড লিখুন।

কোড: 807

মিটার চালু বা বন্ধ করার কোড

কিছু স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে মিটার চালু বা বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে।

সেই ক্ষেত্রে 868 কোড ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের মিটারে এই সুবিধা নাও থাকতে পারে।

কোড: 868

প্রিপেইড মিটারের কোড ব্যবহারের নিয়ম

প্রিপেইড মিটারের কোড ব্যবহার করা খুবই সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই যেকোনো তথ্য দেখা যাবে।

ধাপ-১:মিটারের কিপ্যাডের সামনে যান।

ধাপ-২:যে তথ্য দেখতে চান তার নির্দিষ্ট কোড লিখুন।

ধাপ-৩:Enter অথবা OK বাটন চাপুন।

ধাপ-৪:কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।

ধাপ-৫:মিটারের ডিসপ্লেতে কাঙ্ক্ষিত তথ্য দেখতে পাবেন।

বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য কিছু পরামর্শ

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা যদি নিয়মিত ব্যালেন্স ও ইউনিট পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমে আসে।

চলতি মাসের খরচ ও বর্তমান লোড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে কোন যন্ত্র সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

উল্লেখিত কোডগুলো দেশের অধিকাংশ প্রিপেইড মিটারে কাজ করলেও কিছু মিটার মডেল ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ক্ষেত্রে কোডের ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো কোড কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস বা কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

উপসংহার

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোডগুলো জানা থাকলে ব্যালেন্স, ইউনিট, ভোল্টেজ, মিটার নম্বর এবং বিদ্যুৎ খরচের তথ্য খুব সহজেই জানা যায়। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব হয়।

তাই প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী হিসেবে এই কোডগুলো সংরক্ষণ করে রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন-বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর, কোন গ্রাহকের বিল কত বাড়বে জানুন এক নজরে

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now