বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশের নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য আগের মূল্য বহাল রাখার আবেদন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
আরও পড়ুন-বাতিল হলো আলোচিত প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক চার্জ
সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহক এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগেই তা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, বিপিডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে বলেছে, সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে বিদ্যুতের প্রথম দুই ধাপের গ্রাহকদের জন্য পূর্বের মূল্যহার বহাল রাখা প্রয়োজন। এই আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, লাইফলাইন গ্রাহক এবং মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য আগের দাম বহাল রাখার প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, যেহেতু এই উদ্যোগ সরাসরি সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে, তাই এ বিষয়ে নতুন কোনো গণশুনানির প্রয়োজন হবে না।
কোন গ্রাহকদের জন্য দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন?
| গ্রাহকের ধরন | বিদ্যুৎ ব্যবহার | বর্তমান নতুন দাম | আগের দাম |
|---|---|---|---|
| লাইফলাইন গ্রাহক | ০-৫০ ইউনিট | ৫.৩২ টাকা | ৪.৬৩ টাকা |
| প্রথম ধাপ | ০-৭৫ ইউনিট | ৬.১৮ টাকা | ৫.২৬ টাকা |
সংশ্লিষ্টদের মতে, লাইফলাইন গ্রাহক মূলত সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। সাধারণত একটি বা দুটি ফ্যান, কয়েকটি লাইট এবং সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এই শ্রেণিতে পড়ে। তবে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের ব্যবহার সামান্য বেড়ে গেলেই অনেক পরিবার প্রথম ধাপের বাইরে চলে যায় এবং তাদের বাড়তি বিল গুনতে হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসের হিসাব অনুসারে দেশে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ লাইফলাইন গ্রাহক রয়েছে। এর বড় অংশই গ্রামীণ অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত পরিবার। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে এই ধরনের গ্রাহকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ বিলের সামান্য বৃদ্ধি অনেক সময় বড় চাপ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় প্রথম দুই ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কতজন গ্রাহক উপকৃত হতে পারেন?
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| লাইফলাইন গ্রাহক | প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ |
| সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে | নিম্ন আয়ের পরিবার |
| প্রধান এলাকা | গ্রামীণ অঞ্চল |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা | বিপিডিবি ও বিইআরসি |
তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আয় কিছুটা কমে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো দাম বহাল রাখা হলে বছরে প্রায় ৭৮১ কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে। তবুও সামাজিক সুরক্ষা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই বিদ্যুতের প্রথম দুই ধাপের মূল্য পুনর্বিবেচনার এই উদ্যোগকে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন গ্রাহকরা।
এখন নজর বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। আবেদনটি অনুমোদন পেলে দেশের কোটি কোটি নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ গ্রাহক আগের মূল্যেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারেন।
সূত্র:kalerkantho
আরও পড়ুন-বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর, কোন গ্রাহকের বিল কত বাড়বে জানুন এক নজরে










