শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানাল মাউশি

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানাল মাউশি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা ছিল ১ অক্টোবর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পর মাসের প্রথম দিনেই অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু বেতনসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে টাকা পাননি শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধানের পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

মাউশি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। ফলে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রশাসনিক জটিলতা নেই। তবে অল্পসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন সংক্রান্ত অর্থ ফেরত নেওয়া এবং হিসাব সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত দিনে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। মাউশির অর্থ ও ক্রয় বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, কিছু সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বেতন ব্যাংকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মাউশির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি। এ কারণে বৃহস্পতিবার অর্থ পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দ্রুত ছাড়ের লক্ষ্যে মাউশি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতনের তথ্য ও বিল অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। মাউশির নোটিশ বোর্ডে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের এমপিও এবং পূর্ববর্তী বকেয়া বিল EFT-এর মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বিল সাবমিট করতে বলা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে বেতনের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আর্থিক প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়।

মাউশির সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রতি মাসে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিল প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে অনলাইনে দাখিল করা হয়। প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে। এরপর অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ শেষ করে বেতনের অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা EFT ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তথ্য বা বিলের কোনো অসংগতি থাকলে সেটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেতন পাঠাতে সমস্যা হতে পারে।

চলতি সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়েও একই ধরনের ডিজিটাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি বেতনের তথ্য আইবাস ব্যবস্থায় পাঠানো হয়েছিল। তখন মাউশি সূত্র জানিয়েছিল, প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন হলে ১ অক্টোবর শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

অর্থাৎ এবারের বিলম্বটি সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ার কারণে নয়। বরং অনুমোদনের পর অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে অল্পসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নিয়ে তৈরি হওয়া হিসাবগত জটিলতার কারণে নির্ধারিত দিনে অর্থ পাঠানো যায়নি। মাউশির বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করার পর ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন পাঠানো হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বর্তমানে EFT ব্যবস্থায় পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে আগের মতো বেতন-ভাতার অর্থ বিতরণে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সময়ের প্রয়োজন কমেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোর ফলে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি কোন পর্যায়ে অর্থ পাঠানো হয়েছে, সেটিও ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

মাউশির নোটিশ থেকে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরের বেতন প্রক্রিয়াকে সময়মতো সম্পন্ন করার জন্য প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিল দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইভাবে আগের মাস আগস্টের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা EFT-এর মাধ্যমে পাঠানোর জন্যও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিল সাবমিটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মাসভিত্তিক বেতন-ভাতা ছাড়ের ক্ষেত্রে অনলাইন বিল দাখিল ও EFT এখন নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠেছে।

এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ২০২৬ সালের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বেতন নির্ধারণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাউশি মাঠপর্যায়ের জনবলের তথ্য আইবাস++-এর Pay Fixation Sub-system-এ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

তবে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বিলম্বের সঙ্গে নতুন পে স্কেলের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত বলে মাউশির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বর্তমান বিলম্বের কারণ হিসেবে মাউশি যে তথ্য দিয়েছে, তা হলো অল্পসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনসংক্রান্ত অর্থ ফেরত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় হিসাব সমন্বয়ের বিষয়টি। তাই এ ঘটনাকে নতুন বেতন কাঠামোর কারণে তৈরি জটিলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য মাসের শুরুতে বেতন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত বেতনের ওপর নির্ভর করেই বাড়িভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, দৈনন্দিন খরচসহ অন্যান্য আর্থিক দায় মেটান। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি বেতন পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও কোনো প্রশাসনিক বা হিসাবগত জটিলতা দেখা দিলে অর্থ জমা হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

মাউশির সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান করে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে হিসাবভেদে টাকা জমার সময় সামান্য ভিন্ন হতে পারে।

সব মিলিয়ে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও নির্ধারিত ১ অক্টোবর অর্থ ব্যাংকে পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনসংক্রান্ত অর্থ ফেরত নেওয়া ও হিসাব সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ায় এই বিলম্ব হয়েছে বলে মাউশি জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সমন্বয় শেষে আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা EFT-এর মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page