প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন, বদলাবে দিনের অনুভূতি

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন, বদলাবে দিনের অনুভূতি

ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখার সহজ উপায়।

ঢাকার ব্যস্ততা যেন থামতেই চায় না। সকাল শুরু হয় অ্যালার্মে, এরপর অফিস, ক্লাস, যানজট, মিটিং, ফোনকল, কাজের চাপ—সব মিলিয়ে দিনের বড় একটা অংশ কেটে যায় অন্যের প্রয়োজন আর দায়িত্ব সামলাতে। দিনের শেষে অনেকের মনে হয়, নিজের জন্য সময় কোথায়?

অথচ নিজের জন্য সময় বের করতে সবসময় এক-দুই ঘণ্টা প্রয়োজন হয় না। ব্যস্ত ঢাকার জীবনেও প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখা সম্ভব। এই সময়টা হতে পারে একেবারেই নিজের মতো—কোনো কাজের চাপ নেই, কারও প্রত্যাশা নেই, শুধু একটু থামা।

সারাদিন একটানা ব্যস্ত থাকার ফলে মন ও শরীর দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিটের বিরতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। নিজের পছন্দের কোনো কাজে কিছু সময় দেওয়া আবার দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকেও সাময়িক দূরত্ব তৈরি করে।

এই ৩০ মিনিটকে তাই ‘অতিরিক্ত সময়’ না ভেবে নিজের দৈনন্দিন রুটিনের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

যারা সকালে তুলনামূলক দ্রুত উঠতে পারেন, তাদের জন্য দিনের শুরুতেই এই সময়টি রাখা সুবিধাজনক হতে পারে। ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েক মিনিট ফোন না দেখে বারান্দায় বসে থাকা, জানালা দিয়ে বাইরের পরিবেশ দেখা কিংবা ধীরে ধীরে চা বা কফি পান করা—এসব দিয়েই সময়টা শুরু করা যায়।

এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটার সুযোগ সবসময় সহজ না হলেও বাসার ছাদ, করিডর বা কাছাকাছি নিরাপদ জায়গা ব্যবহার করা যায়।

ঢাকার যানজট অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অনিবার্য অংশ। গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে যাঁরা যাত্রী হিসেবে যাতায়াত করেন, তাঁরা এই সময়ের একটি অংশ অডিওবুক, পডকাস্ট, পছন্দের গান কিংবা শিক্ষামূলক কোনো অডিও শুনতে ব্যবহার করতে পারেন।

তবে পুরো সময় ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা প্রয়োজন নেই। কিছুক্ষণ শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকাও মানসিক বিরতি হতে পারে।

অফিস বা কাজের জায়গায় পুরো ৩০ মিনিট বের করা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৩০ মিনিট একসঙ্গে না নিয়ে ভাগ করে নেওয়া যায়।

সকালে ১০ মিনিট, দুপুরে ১০ মিনিট এবং রাতে আরও ১০ মিনিট—এভাবেও নিজের জন্য সময় তৈরি করা সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই সময়গুলোতে কাজের চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া।

দিনের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০-৩০ মিনিট হাঁটা অনেকের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে। হাঁটার সময় অফিসের ফোন বা কাজের ই-মেইল থেকে কিছুটা দূরে থাকা যায়।

কাছাকাছি কোনো পার্ক, খোলা জায়গা বা শান্ত রাস্তা থাকলে সেখানে হাঁটা যেতে পারে। জায়গা বা সময়ের নিরাপত্তা বিবেচনা করে হাঁটার রুট বেছে নেওয়া জরুরি নিজের জন্য ৩০ মিনিট মানেই উৎপাদনশীল কিছু করতেই হবে—এমন নয়।

কেউ বই পড়তে ভালোবাসেন, কেউ গান শুনতে, কেউ ছবি আঁকতে বা লিখতে। আবার কেউ হয়তো দিনের শেষে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে চান।

এই সময়ের উদ্দেশ্য হলো নিজের পছন্দের কোনো কাজ করা, যা আপনাকে কাজের চাপ থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখে।

নিজের জন্য সময় বের করেও যদি পুরো ৩০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, মেসেজ ও কাজের ই-মেইলে চলে যায়, তাহলে মানসিক বিরতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

তাই প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে। ফোন একেবারে বন্ধ করা সম্ভব না হলে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা প্রয়োজনীয় কল ছাড়া অন্য নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার মতো সহজ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্রতিদিন ৩০ মিনিটের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন একটু বেশি সময় নিজের জন্য রাখা যেতে পারে। ঢাকার কোনো বইয়ের দোকান, ক্যাফে, পার্ক, জাদুঘর বা নিজের পছন্দের কোনো জায়গায় একা কিছু সময় কাটানোও হতে পারে সেই পরিকল্পনার অংশ।

এখানে লক্ষ্য বড় কোনো আয়োজন নয়। বরং নিয়মিত জীবনের একই রুটিনের বাইরে সামান্য পরিবর্তন আনা।

৩০ মিনিটের একটি সহজ রুটিন:

নিজের সুবিধা অনুযায়ী ৩০ মিনিটকে এমনভাবে ভাগ করা যেতে পারে—

১০ মিনিট: হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং
১০ মিনিট: বই পড়া, গান শোনা বা পছন্দের কোনো কাজ
১০ মিনিট: ফোন দূরে রেখে চুপচাপ বসা, দিনের পরিকল্পনা করা বা নিজের অনুভূতি নিয়ে ভাবা

অবশ্য এই ভাগ বাধ্যতামূলক নয়। কারও কাছে পুরো ৩০ মিনিট বই পড়াই সবচেয়ে ভালো লাগতে পারে, আবার কারও কাছে ৩০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট।

অনেকেই নিজের জন্য সময় বের করতে গিয়ে অপরাধবোধে ভোগেন। মনে হয়, এই সময়টুকু হয়তো কাজ, পরিবার কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বে দেওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব সামলানোর জন্য নিজের বিশ্রাম ও মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময় রাখা তাই দায়িত্ব থেকে পালানো নয়; বরং নিজের প্রয়োজনকে স্বীকার করার একটি উপায়।

ব্যস্ত ঢাকায় সময়ের অভাব সত্যি, কিন্তু নিজের জন্য সময় একেবারেই নেই—এটা সবসময় সত্য নয়। এক ঘণ্টা বা অর্ধেক দিন নয়, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট দিয়েও নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো সম্ভব।

কাজের চাপ, যানজট আর অসংখ্য দায়িত্বের মাঝেও তাই দিনের একটি ছোট অংশ নিজের নামে রাখা যেতে পারে। কারণ দিনের সব ব্যস্ততার শেষে নিজের জন্য রাখা সেই ৩০ মিনিটই হয়তো পরের দিনটাকে একটু স্বস্তিতে শুরু করার সুযোগ করে দিতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page