এবার মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলল ৪১টি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে, শিশুদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
এবার মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলল ৪১টি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে, শিশুদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

গবেষণায় দুধে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার তথ্য

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একটি গবেষক দল। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন সানাউল্লাহ মাজুমদার।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এ গবেষণাকে দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রথম বিস্তৃত গবেষণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধের নমুনা, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য।

ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপ ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। ব্র্যান্ডের দুধে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬ দশমিক ৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। কাঁচা দুধে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি।

গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি বা পাইপের সংস্পর্শের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দুধে মিশে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দুধে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের বেশিরভাগই ছিল স্বচ্ছ ও আঁশ আকৃতির। এসব কণার বড় অংশের আকার ছিল ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম।

কাঁচা দুধে প্রায় ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ কণা ছিল আঁশ আকৃতির। পরীক্ষায় পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনের মতো বিভিন্ন ধরনের পলিমারের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, শিশুদের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা দুধের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় এবং শরীরের ওজন কম থাকায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষা করার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন