হাম ও উপসর্গে ৯২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ১৮

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে ৯২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ১৮

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর তথ্য জানায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮২৩ শিশু। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৩১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৬ জনের শরীরে।

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গত কয়েক মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯২২-এ পৌঁছেছে। ফলে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page