জেলা হাসপাতালে ১০টি, মেডিকেলে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন বসানোর উদ্যোগ
জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে কিডনি চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি করে এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকট কমাতে সরকারের এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবচেয়ে বড় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ নয়, প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান ও পরিধি বাড়ানো গেলে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের আর ঢাকামুখী হতে হবে না। এতে রাজধানীর বড় ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে। পাশাপাশি চিকিৎসকরাও রোগীদের আরও মনোযোগ দিয়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন।
বক্তব্যে বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের সমালোচনাও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে চিকিৎসা খাতের প্রকৃত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদেশ থেকে আমদানি করা অনেক যন্ত্রপাতি বর্তমানে ব্যবহার অযোগ্য বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে।
এদিকে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাও মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সময় মানুষ হঠাৎ বুকের ব্যথা বা অস্বস্তিকে গ্যাস কিংবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেরাই ওষুধ সেবন করেন। এমন অবহেলা কখনো কখনো গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তাই বুকের ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান চিকিৎসকরা।
হৃদরোগের ঝুঁকি ও অকালমৃত্যু কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বর্জন, অতিরিক্ত কাঁচা লবণ না খাওয়া এবং ফাস্টফুড ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়বে। এতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের বিশেষায়িত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
