হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন সতর্কতা

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন সতর্কতা

হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন সতর্কতা

হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নতুন এই মৃত্যুর ফলে চলমান প্রাদুর্ভাবে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৯ জনে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বেশির ভাগই এমন শিশু, যারা নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা পায়নি বা টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে ছিল। চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এ রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাম সাধারণত কয়েক দিনের জ্বরের পর শরীরে র‍্যাশের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার কারণেই মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত দুটি ডোজ হাম-রুবেলা টিকা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে টিকা বাদ পড়লে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যালয় ও কমিউনিটিতেও সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখলে রোগটির বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page