সম্প্রতি অনেকের মোবাইল ফোনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা ও জরিমানার নোটিশসংবলিত খুদে বার্তা আসছে। এসব বার্তায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বা ট্রাফিক বিভাগের নাম ব্যবহার করে জরিমানা পরিশোধের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বলা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এসব বার্তার একটি বড় অংশ প্রতারণামূলক হতে পারে। তাই কোনো বার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
এআই ট্রাফিক মামলা কী?
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত ৭ মে থেকে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে। এসব ক্যামেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করে।
আরও পড়ুন- রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই প্রযুক্তি
১. এআই ক্যামেরা আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে
বিশেষ সফটওয়্যারযুক্ত এআই ক্যামেরা ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে শনাক্ত হওয়া প্রতিটি ঘটনা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করা হয়।
২. মামলা হলে প্রথমে ডাকযোগে নোটিশ যায়
বর্তমানে এআই ক্যামেরায় ধরা পড়া তথ্য যাচাইয়ের পর গাড়ির মালিকের নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে মামলার নোটিশ পাঠানো হয়। শুধুমাত্র একটি এসএমএস পেলেই সেটিকে চূড়ান্ত নোটিশ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৩. সরকারি নোটিশে কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী পাঠানো নোটিশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে। স্বাক্ষরবিহীন বা সন্দেহজনক বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
৪. নির্দিষ্ট নম্বর থেকে বার্তা আসতে পারে
প্রয়োজনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠাতে পারে। অন্য কোনো নম্বর থেকে আসা বার্তার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
৫. জরিমানা পরিশোধের নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে
ট্রাফিক জরিমানা অনুমোদিত ব্যাংকিং বা সরকারি পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। অপরিচিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অর্থ লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৬. ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কখনো চাওয়া হয় না
ডিএমপি বা ট্রাফিক বিভাগ কোনো অবস্থাতেই আপনার পিন নম্বর, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড চাইবে না। এমন অনুরোধ এলে তা প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
৭. সন্দেহ হলে সরাসরি যোগাযোগ করুন
কোনো বার্তা নিয়ে সন্দেহ হলে ট্রাফিক এআই সেল বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে পারেন।
কী করবেন?
- অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
- ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না
- জরিমানা পরিশোধের আগে তথ্য যাচাই করুন
- সন্দেহজনক বার্তা পেলে কর্তৃপক্ষকে জানান
শেষ কথা
সাইবার প্রতারণার কৌশল দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। তাই ট্রাফিক মামলার নামে কোনো এসএমএস পেলেই আতঙ্কিত না হয়ে আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি। সামান্য সচেতনতা আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও তথ্য চুরি থেকে রক্ষা করতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ চ্যানেল 24










