রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই প্রযুক্তি

প্রকাশিত: 05-06-2026 10:28 AM
রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই প্রযুক্তি

রাজধানী ঢাকায় যানজট, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই নগরবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিশেষ করে হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার, নির্মাণকাজের শব্দ, উচ্চ শব্দে মাইকিং এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে দিন দিন শব্দদূষণের মাত্রা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

আরও পড়ুন-ট্রাফিক আইন ভাঙলে এবার সরাসরি চালকের বিরুদ্ধে মামলা

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার শব্দদূষণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণেও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান এলাকায় আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইভিত্তিক শব্দ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে নির্দিষ্ট এলাকায় শব্দের মাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে। কোনো এলাকায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শব্দ তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া কিংবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, অনিদ্রা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়তে পারে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় শব্দের মাত্রা প্রায়ই অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকা এবং সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং আইন প্রয়োগের সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ডিএনসিসি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং নগর জীবনে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

বর্তমানে রাজধানীতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও যদি একই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now