রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অমান্যকারী চালকদের জন্য আসছে নতুন বার্তা। এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা না করে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মামলা দেওয়ার পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন-ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে ভিডিও, পরে মোবাইলে যাবে মামলার নোটিশ
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, এখন থেকে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা সরাসরি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু জরিমানাই নয়, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, এতদিন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রাফিক মামলা গাড়ির নম্বর প্লেটের ভিত্তিতে করা হতো। ফলে মামলার দায় গিয়ে পড়ত গাড়ির মালিকের ওপর। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক নিজে গাড়ি চালান না। একজন নিয়োজিত চালক গাড়ি পরিচালনা করেন। ফলে আইন ভঙ্গ করলেও প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি অনেক সময় সরাসরি জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যান।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অন্তত অর্ধেক মামলা সরাসরি চালকের বিরুদ্ধে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এতে একজন চালক আইন ভঙ্গ করলে তাকে নিজেই জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে এবং একই সঙ্গে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডেও বিষয়টি যুক্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ডিমেরিট পয়েন্ট বা পয়েন্ট কর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স শুধু একবার নিয়ে সারাজীবন ব্যবহার করার বিষয় নয়। এটি একজন চালকের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হওয়া উচিত। একজন চালক বারবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তার লাইসেন্স থেকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট কাটা যেতে পারে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন চালক নিয়োগের সময় তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট যাচাই করতে পারে। যে চালকের বিরুদ্ধে কম অভিযোগ রয়েছে এবং যার পয়েন্ট বেশি রয়েছে, তিনি স্বাভাবিকভাবেই বেশি দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক হিসেবে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে বারবার আইন ভঙ্গ করা চালকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমানে রাজধানীতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা ক্যামেরা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক চালকই প্রযুক্তিগত নজরদারিকে এড়িয়ে যাওয়ার বিভিন্ন কৌশল খুঁজছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিএমপি বলছে, প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা না করে আইন মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
মো. আনিছুর রহমান আরও জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তন এবং চালকদের পয়েন্ট সম্পর্কিত তথ্য জানার প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা রয়েছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চালকের নামে সরাসরি মামলা এবং লাইসেন্সভিত্তিক পয়েন্ট ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে দায়িত্বশীল আচরণ বাড়তে পারে। কারণ তখন আইন ভঙ্গের প্রভাব শুধু আর্থিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং চালকের পেশাগত রেকর্ডেও তার প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ডিমেরিট পয়েন্ট পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
তথ্যসূত্র:ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু








