বাড়ির কাছেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
বাড়ির কাছেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বাড়ির কাছেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশের মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে না—এমন লক্ষ্য নিয়েই স্বাস্থ্যখাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু এবং ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন তার বসবাসের কাছাকাছি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান। চিকিৎসার জন্য মানুষকে জেলা শহর বা রাজধানীতে ছুটে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা এবং নগর পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হচ্ছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নগর এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো নিজ এলাকার কাছাকাছি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক মানুষ শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেন। এতে রোগীদের যেমন ভোগান্তি বাড়ে, তেমনি বড় হাসপাতালগুলোর ওপরও অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। এই চাপ কমাতেই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ রোগীরা সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিজ এলাকায় পেয়ে যান।

সরকার শুধু প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবাও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যায়ক্রমে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস ইউনিট সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কিডনি রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করাতে জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে যেতে হয়। এতে রোগী ও তার পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। উপজেলা পর্যায়ে এই সেবা চালু হলে হাজার হাজার রোগী নিজ এলাকার কাছেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও একযোগে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পান কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ অধিকাংশ সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমবে এবং জটিল রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়া সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু হলে কিডনি রোগীদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। বর্তমানে অনেক রোগী শুধু দূরত্ব ও ব্যয়ের কারণে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে পারেন না। স্থানীয়ভাবে এই সুবিধা চালু হলে তাদের চিকিৎসা গ্রহণ অনেক সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা সম্প্রসারণ, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস চালু এবং জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবা আরও জনবান্ধব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতে প্রাথমিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা যদি স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন