ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল AFC

reporter
Remon
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল AFC

ফিফার বিরুদ্ধে এশিয়ার কড়া অবস্থান

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি পরিকল্পনা— বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব— এখন তিনটি বড় মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। উয়েফার সঙ্গে যোগ দিয়ে কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইনফান্তিনোর গোপন এই প্রকল্পের আওতায় ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান “ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ” (এফএফই)-এ রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে, যার ২০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে। এই বিনিয়োগে মূল ভূমিকায় থাকবে জোশুয়া কুশনারের একটি নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা— যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। বিরোধিতাকারী পক্ষে আছে উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ, কনকাকাফের ৪১টি সদস্য (যার মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো রয়েছে), এবং এএফসি। মোট মিলিয়ে এই তিন কনফেডারেশনের সদস্য সংখ্যা ১৪০-এর বেশি, যা ফিফার মোট সদস্যপদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার ইনফান্তিনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এরপর বৃহস্পতিবার এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় উয়েফা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দেয়। একই দিনে পরে কনকাকাফও নিজস্ব সভা শেষে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে, আর এএফসি প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা সদস্য ফেডারেশনগুলোর কাছে চিঠি লিখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কনকাকাফ জানিয়েছে, প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব, কৃত্রিমভাবে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা আরোপ এবং ফিফার প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর কোনো পর্যালোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই এগিয়ে যাওয়া নিয়ে সদস্যদের গভীর উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও প্রশ্ন তুলেছে, ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপের পরও বহিরাগত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। এএফসি বলেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতভাবে ফিফার বিস্তৃত সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য ও ঐক্য অর্জন করতে পারবে না। অন্যদিকে উয়েফা এটিকে ফিফার নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং বিশ্ব ফুটবলের রক্ষকের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই ঘটনাপ্রবাহ মূলত ফিফার প্রশাসনিক পর্যায়ে এবং তিনটি মহাদেশীয় সংস্থার সভাগুলোতে ঘটেছে— উয়েফা (ইউরোপ), কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান) এবং এএফসি (এশিয়া)। তবে এর প্রভাব বৈশ্বিক, কারণ ফিফার আসন্ন টুর্নামেন্ট— যেমন সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ— এই বয়কটের আওতায় পড়তে পারে।

উয়েফা ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এবং তাদের জাতীয় সংস্থাগুলো ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, যতক্ষণ না এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো দেশগুলো পুরুষ বা নারী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কনকাকাফ তাদের ফিফা কাউন্সিল সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। ইনফান্তিনো নিজে বুধবার বলেছিলেন যে এটি একটি প্রস্তাব মাত্র, বাধ্যবাধকতা নয়— বরং এক ধরনের গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়া। তবে তিন মহাদেশের এমন সম্মিলিত অবস্থানের পর ফিফার ভেতরে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মোড়— যেখানে ফুটবলের তিনটি বৃহত্তম মহাদেশীয় সংস্থা একজোট হয়ে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে ফিফা এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নাকি নিজের অবস্থানে অনড় থাকে, তার ওপর।

তথ্যসূত্র : ESPN

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন