কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কারণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ক্রমেই নতুন মাত্রা নিচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে কার্যত আর কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের বাড়তি দামের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে সামাল দিতে গিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম সমন্বয় না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও লোকসান ও ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে।

ভর্তুকির চাপের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রেই আগের দামে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছিল। মূল্য সমন্বয় না করলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতো।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মূল্য সমন্বয়ের পরও জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেলে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।

এর আগে রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব সময় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কারণে বিপিসির আর্থিক চাপও বেড়েছে। পাশাপাশি দেশের তুলনায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তা সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ কমানোর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page