৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, থাকছে যেসব নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, থাকছে যেসব নিষেধাজ্ঞা

মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় শুধু মাছ ধরা নয়, ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন ও মজুতকরণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিময় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যাতে বাজারে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য বরফকল, আড়ত ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। চাঁদপুর মোহনা ও অন্যান্য প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই মাছ ধরা বা ইলিশ বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোথায় দুর্বলতা রয়েছে বা কার্যক্রমে কোথাও ঘাটতি হচ্ছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জেলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলেদের এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছেই সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page