প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা
প্রতি বছর ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং এ দিন সাধারণ ছুটি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দিনটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছিল। ২১ এপ্রিল জারি করা ওই পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ মার্চ জারি করা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত শ্রেণির একটি জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হবে।
৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলে আলোচিত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিবসটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। তবে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিবসটি এখন থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে এবং সাধারণ ছুটি থাকবে।
সাধারণ ছুটি ঘোষণার ফলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ছুটির প্রভাব পড়বে। তবে ছুটির দিনে জরুরি সেবা, হাসপাতাল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী চালু থাকে, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধি ও নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
এদিকে একই দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির তারিখ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি থাকবে এবং ২২ অক্টোবর অতিরিক্ত নির্বাহী আদেশের ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে চলতি বছরের শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। তবে ৭ নভেম্বরের সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্তটি আলাদাভাবে প্রতি বছর কার্যকর থাকবে বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৭ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ছুটির ক্যালেন্ডারে একটি নির্দিষ্ট সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এর আনুষ্ঠানিক মর্যাদাও নির্ধারিত হলো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
