নওগাঁর মান্দার উথরাইল বিলে কৃষক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হলো আশ্রয় সেড

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
নওগাঁর মান্দার উথরাইল বিলে কৃষক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হলো আশ্রয় সেড

ফসলের মাঠে কৃষক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত আশ্রয় সেড

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের উথরাইল বিলে ফসলের মাঠে কৃষক ও শ্রমিকদের বিশ্রাম এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য একটি সেড নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মিত এ সেডকে ঘিরে স্বস্তি ফিরেছে বিলের কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর দিকনির্দেশনায় সেডটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উথরাইল বিলের চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। বোরো মৌসুমে এ বিলে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন করেন স্থানীয় কৃষকেরা। ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার মৌসুমে প্রতিদিন বিলের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন কৃষক ও শ্রমিক কাজ করেন। দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করলেও এতদিন তাঁদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা ছিল না। একই সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় কিংবা বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত।

বিলউথরাইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বোরো মৌসুমে উথরাইল বিলজুড়ে সোনালি ধানে ভরে যায়। ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হলে প্রতিদিন শত শত কৃষক ও শ্রমিক মাঠে কাজ করেন। কিন্তু এত বড় এলাকায় বিশ্রামের জন্য তেমন কোনো জায়গা ছিল না। বিলের মধ্যে পর্যাপ্ত গাছপালাও না থাকায় প্রচণ্ড রোদে কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হতো।

তিনি বলেন, কালবৈশাখী ঝড় কিংবা মেঘের গর্জন শুরু হলে নিরাপদ জায়গায় যেতে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে হঠাৎ দুর্যোগ শুরু হলে কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতো। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় বিলের মধ্যে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।

কৃষকদের ভাষ্য, ফসল কাটার সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ থাকে না। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে কৃষক ও শ্রমিকদের মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। ফলে বৃষ্টি, ঝড় কিংবা বজ্রপাতের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা থাকাটা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিলের জুলংগী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি বটগাছ লাগিয়েছেন। গাছটি বর্তমানে কিছুটা ছায়া দিতে শুরু করেছে। এ ছাড়া ওই মোড় থেকে গ্রামের সড়কের পাশে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বেশ কিছু তালগাছও লাগানো হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে সেড নির্মাণ হওয়ায় দুর্যোগের সময় কৃষক ও শ্রমিকদের আশ্রয়ের একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

তবে সেড নির্মাণে স্বস্তি এলেও এর আকার নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। কয়েকজন কৃষক জানান, বোরো মৌসুমে উথরাইল বিলের ওই এলাকায় প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগম হয়। সে তুলনায় নির্মিত সেডটির ধারণক্ষমতা কম। তাঁদের মতে, কৃষক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সেড নির্মাণ করা প্রয়োজন, যেখানে একসঙ্গে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা টিআর প্রকল্পের আওতায় উথরাইল বিলে সেডটি নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দিকনির্দেশনায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উথরাইল বিলের মতো উপজেলার অন্যান্য যেসব এলাকায় কৃষকদের দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করতে হয় এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব বিলেও এ ধরনের সেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, উথরাইল বিলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিলে কৃষক ও শ্রমিকেরা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন ও ঘরে তোলার কাজ করেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উথরাইল বিলে কৃষক ও শ্রমিকদের বিশ্রাম এবং ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ফসলের মাঠে এমন স্থাপনা শুধু বিশ্রামের জায়গা হিসেবে নয়, দুর্যোগের সময় জরুরি আশ্রয় হিসেবেও কাজে আসবে। তবে বিপুলসংখ্যক কৃষক ও শ্রমিকের কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে সেডটির পরিসর বাড়ানো গেলে এর সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page