স্বাস্থ্যকর্মীদের হাজিরায় কড়াকড়ি, অনুপস্থিত থাকলে আটকে যাবে বেতন

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যকর্মীদের হাজিরায় কড়াকড়ি, অনুপস্থিত থাকলে আটকে যাবে বেতন

স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও ডিজিটাল নজরদারি চালুর সিদ্ধান্ত।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনুপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন বিল ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাজিরার তথ্য রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) অধীনে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি রিয়েল টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উপস্থিতির তথ্য দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন কি না, তা কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

হাজিরার তথ্যকে সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, সব কর্মীর উপস্থিতির তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির মতো বিষয়গুলো হাজিরার তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ ছাড়া ডিউটি রোস্টার ও ছুটির তথ্যের মধ্যে যে ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে, তা দূর করে সংশ্লিষ্ট তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে বলা হয়েছে। এর ফলে একজন স্বাস্থ্যকর্মী কখন কর্মস্থলে থাকার কথা এবং কখন ছুটিতে রয়েছেন, সে তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাচাই করা সহজ হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বিল ছাড়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সিং (ডিডিও) কর্মকর্তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই বেতন বিল অগ্রায়ন করবেন।

কোনো স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে এবং সেই অনুপস্থিতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন বিল ছাড় করা যাবে না। অর্থাৎ কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি বেতন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাজিরা ব্যবস্থার তদারকি আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিভাগ ও জেলাভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এসব কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা পর্যবেক্ষণ করবেন।

পাশাপাশি বিভাগীয় পরিচালক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জনদের প্রতি সপ্তাহে ই-হাজিরা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতির চিত্র নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে উপস্থিতির তথ্য যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসাসেবা যথাসময়ে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজিরা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কে কখন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন, ছুটিতে ছিলেন কি না এবং দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করেছেন কি না—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। ফলে অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page