মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল তেলের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল তেলের দাম

??????????????????????????????????????????

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ওমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করায় তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা বাজারকে প্রভাবিত করছে।

আরও পড়ুন- সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তি, জুন মাসে কমলো এলপিজির দাম

সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা প্রায় ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এই তেলের দাম প্রায় ২.৮৪ শতাংশ কমেছিল।

একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও সামান্য বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি ২ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩.০৬ ডলার। আগের কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩.১ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

বিশ্ববাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একদিনের ঘটনা নয়। বরং টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে ডব্লিউটিআইয়ের দাম সপ্তাহজুড়ে ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে উদ্বেগের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা। আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ার খবরও বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, বাজারে ইতিবাচক কিছু সংকেত থাকলেও এখনো অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বিভিন্ন পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য আসায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের মহাসচিব হাইথাম আল-গাইস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সীমিত কার্যক্রম সত্ত্বেও চলতি বছরে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জ্বালানির চাহিদা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে বাজারে কিছু নেতিবাচক চাপও রয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বলছে, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা চীনে চাহিদা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় তেলের দাম বাড়ার গতি সীমিত থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চাহিদা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের বাজার কোন দিকে যায়। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

সূত্র: NEWS24

আরও পড়ুন- ১ টন এসি চালালে দিনে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন