সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তি, জুন মাসে কমলো এলপিজির দাম
সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তি
দেশের কোটি কোটি এলপিজি ব্যবহারকারীর জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। নতুন মাসের শুরুতেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও দেখুন-বর্তমান সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কত? (আজকের আপডেট)
মঙ্গলবার (২ জুন) বিইআরসি নতুন মূল্য ঘোষণা করে জানায়, জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে আগের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় করতে হবে গ্রাহকদের। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘোষিত নতুন মূল্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসির সর্বশেষ ঘোষণায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মে মাসে একই পরিমাণ গ্যাসের দাম ছিল এক হাজার ৯৪০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দাম কমায় বাজারে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারের এলপিজি নয়, কমানো হয়েছে অটোগ্যাসের দামও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা। আগে এর দাম ছিল ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে অটোগ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহনের মালিকরাও কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
তবে চলতি বছরের এলপিজি বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, কয়েক মাস ধরেই দামের ওঠানামা চলছে। গত এপ্রিল মাসে একাধিকবার এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১৯ এপ্রিল আবারও ২১২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৯৪০ টাকা।
এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবারকে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের যেসব পরিবার রান্নার জন্য সম্পূর্ণভাবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। সেই তুলনায় জুন মাসের মূল্য সমন্বয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ে। বৈশ্বিক বাজারে এলপিজির আমদানি মূল্য কমলে দেশীয় বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে দেশের ভোক্তাদেরও বাড়তি দাম গুনতে হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পরিবহন ব্যয়, ডিলার কমিশন এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা দামের পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তবে বিইআরসি ঘোষিত মূল্যই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হিসেবে কার্যকর থাকবে।
নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর অনেক ভোক্তা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীল থাকলে আগামী মাসগুলোতেও এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে চূড়ান্তভাবে সবকিছু নির্ভর করবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর।
এদিকে নতুন মূল্য ঘোষণার পর এলপিজি ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সিলিন্ডার কেনার সময় বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং অতিরিক্ত দাম দাবি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
আরও পড়ুন-বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট ! আপনারটা বৈধ কিনা চেক করুন
