সারের ডিলার নিয়োগে তদবির নয়, তালিকায় প্রথমজনই পাবেন দায়িত্ব

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
সারের ডিলার নিয়োগে তদবির নয়, তালিকায় প্রথমজনই পাবেন দায়িত্ব

সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তদবিরের প্রভাব ঠেকিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সারাদেশে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাবের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকায় যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রথমে থাকা প্রার্থীকেই ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কোনো এলাকার তালিকা তৈরিতে অনিয়ম বা নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেসব এলাকার নিয়োগের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হবে। পরে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওইসব এলাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তালিকাগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। এরপর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মৌখিক অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ডিলার নিয়োগের তালিকা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির সময় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট মাঠ প্রশাসনের। মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করার অবস্থান নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৪ হাজার ৯৩১টি নতুন ডিলার নিয়োগের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৬ হাজার ৯৫৫ জন। অর্থাৎ প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১০ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন।

২০২৬ সালের নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ১৯ আগস্ট। পরে সময় বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন যাচাইয়ের প্রথম ধাপে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি আবেদনগুলো যাচাই করে। এরপর দুই কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটি আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে।

পরবর্তী ধাপে উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রার্থীদের তথ্য জেলা কমিটি আবার যাচাই করে। যাচাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর তালিকা সার ডিলারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। অন্যদিকে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। ফলে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও তালিকা তৈরিতে ইউএনও ও ডিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবিরের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধাসরকারি পত্র বা ডিও লেটার এবং ইউএনও-ডিসির কাছে সুপারিশ করিয়ে দেওয়ার নামে ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়েও বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের চাপের কথা জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের তদবিরে প্রভাবিত না হয়ে নীতিমালা ও মাঠপর্যায়ের তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এমন এলাকাগুলো আলাদাভাবে যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page