ই-পাসপোর্ট করতে NID নাকি জন্মনিবন্ধন, কোন বয়সে কোনটি লাগবে?
ই-পাসপোর্ট আবেদনে NID ও জন্মনিবন্ধনের নিয়ম
ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে, আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে নাকি জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েই আবেদন করা যাবে। বয়সের ওপর নির্ভর করে এ ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। তাই আবেদন করার আগে নিজের বয়স অনুযায়ী কোন পরিচয়পত্র প্রযোজ্য, সেটি জানা থাকলে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করার ঝুঁকি কমে।
সরকারি ই-পাসপোর্টের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ বা BRC গ্রহণযোগ্য। এ বয়সের আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে তার পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরও আবেদনে উল্লেখ করতে হয়।
১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ—দুটির যেকোনো একটি ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এই বয়সসীমার একজন আবেদনকারীর কাছে NID না থাকলেও বৈধ অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ থাকলে তা দিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা সম্ভব।
তবে ২০ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID আবশ্যক। দেশে বসবাসরত এ বয়সী কেউ শুধু জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন না।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আবেদন করার সময় অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ফলে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দেশে আবেদনকারীদের নিয়মের সঙ্গে সরাসরি মিল না করে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের প্রযোজ্য নির্দেশনা দেখে আবেদন করা প্রয়োজন।
ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণের সময়ও পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে সব তথ্য দিতে হয়। আবেদন ফরমে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থানসহ ব্যক্তিগত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্যের মিল না থাকলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে নামের বানান, জন্মতারিখ এবং জন্মস্থানের তথ্য দেওয়ার সময় আবেদনকারীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। নিজের পরিচয়পত্রে তথ্য একভাবে এবং পাসপোর্টের আবেদনে অন্যভাবে লেখা হলে তথ্য যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ বছরের কম বয়সী যাদের নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের আবেদনে পিতা অথবা মাতার NID নম্বর উল্লেখ করতে হয়। তাই সন্তানের ই-পাসপোর্টের আবেদন করার আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।
পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় পরিচয়সংক্রান্ত মূল নথি প্রদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই কাজ শেষ নয়; আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূল কপি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।
ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নতুন আবেদনকারী এবং রি-ইস্যু আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও এক হতে পারে না। আগের পাসপোর্ট থাকলে রি-ইস্যুর সময় সেটি দেখাতে হয়। আবার তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিও লাগতে পারে।
এ কারণে ই-পাসপোর্ট করার আগে শুধু NID আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের বয়স, আবেদনের ধরন এবং বর্তমান পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক আছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আবেদন করার সময় যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটির তথ্য হুবহু অনুসরণ করা। ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পরবর্তী ধাপে আবেদন যাচাই বা পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ই-পাসপোর্ট করতে যাওয়ার আগে নিজের বয়স অনুযায়ী NID বা জন্মনিবন্ধন কোনটি প্রয়োজন, তা নিশ্চিত হয়ে আবেদন করাই নিরাপদ। প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রেখে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
