দুই বছর পর পায়রা বন্দরে সরাসরি বার্থিং, যুক্ত হচ্ছে ৫ অত্যাধুনিক ক্রেন

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর পায়রা বন্দরে সরাসরি বার্থিং, যুক্ত হচ্ছে ৫ অত্যাধুনিক ক্রেন

পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট নিয়ে জাহাজ পৌঁছেছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে যুক্ত হতে যাচ্ছে পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট। এসব সরঞ্জাম নিয়ে ‘ফ্যান ঝৌ-৬’ নামের একটি জাহাজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের জেটিতে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই বছর পর বন্দরের জেটিতে সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রমও পুনরায় শুরু হয়েছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও দক্ষ করতে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। নতুন ইকুইপমেন্ট যুক্ত হলে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার খালাসের সময় কমার পাশাপাশি বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে।

প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা পাঁচটি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে দুটি এসটিএস (শিপ-টু-শোর/কোয়াই গ্যান্ট্রি ক্রেন), যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৮০ টন। রয়েছে দুটি আরটিজি (রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন), প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৪০ টন। এছাড়া রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি এমএইচসি (মোবাইল হারবার ক্রেন)।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে চীনের এনপিএইচএমসি (Nanjing Port & Harbor Machinery Company) ও এক্সসিএমজি (Xuzhou Construction Machinery Group)।

পায়রা বন্দর ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ করা হবে। আরটিজি ক্রেন দিয়ে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তর করা হবে। অন্যদিকে এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার দ্রুত ডিসচার্জিং এবং শিপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, ১৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার গভীরতার ‘ফ্যান ঝৌ-৬’ জাহাজটি এসব ইকুইপমেন্ট নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে।

তিনি বলেন, আধুনিক এসব সরঞ্জাম যুক্ত হলে বন্দরের কার্গো অপারেশন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে অধিক ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে বৃহৎ পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বাড়বে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম বলেন, অত্যাধুনিক পাঁচটি কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পায়রা বন্দর ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড শেডের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ক্রেনগুলো আসায় ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থও পূর্ণতা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাব্যতা ধরে রাখতে পারলেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর সক্ষমতা বিকাশের পথও সুগম হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি ডা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে সরাসরি বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page