রাজধানীর যানজট কমাতে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দক্ষিণ সিটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সড়কে ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বাকি অংশে ঈদুল আজহার পর এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুন-ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে ভিডিও, পরে মোবাইলে যাবে মামলার নোটিশ
রোববার (২৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর দক্ষিণ অংশে মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ পয়েন্টে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে আনতে শুধু ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করলেই হবে না, বরং গণপরিবহন, রিকশা চলাচল এবং ফুটপাতের হকার ব্যবস্থাপনাকেও সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, রাজধানীর ভেতরে ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহন যেন রাজধানীর মূল সড়কে প্রবেশ না করে, সে জন্য গাবতলী থেকে পোস্তা পর্যন্ত সড়ক ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সড়কটির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে। ঈদুল আজহার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই সড়কটি পরিদর্শনে যেতে পারেন বলেও জানান তিনি।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত মোড়গুলোতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু হলে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং সড়কে সময় অপচয় কমবে। তবে সিস্টেম কার্যকর রাখতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে পশুর হাট ও কোরবানিকেন্দ্রিক বর্জ্য দ্রুত অপসারণের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করার লক্ষ্যে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, গাড়ি ও পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহায় রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানি হওয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প সড়ক উন্নয়ন, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসী আরও স্বস্তিদায়ক সেবা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু




