ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই কিস্তিতে বাইক! জানুন কেনার সহজ উপায়
ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে কিস্তিতে বাইক কেনার উপায়।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে একবারে পুরো টাকা দিয়ে বাইক কেনা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল কেনার জন্য ঋণ বা কিস্তিভিত্তিক অর্থায়নের সুবিধা দিয়ে থাকে। ফলে ক্রেডিট কার্ড না থাকলেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাইক কেনার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের সুবিধাকে অনেক ব্যাংক Two Wheeler Loan, Motorcycle Financing বা Bike Loan নামে পরিচালনা করে।
ক্রেডিট কার্ড ছাড়া কিস্তিতে বাইক কেনার অন্যতম উপায় হলো সরাসরি মোটরসাইকেল ঋণের জন্য আবেদন করা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদনকারীর আয়, চাকরি বা ব্যবসা, বয়স, ব্যাংক লেনদেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুমোদন হলে ঋণের অর্থ নির্ধারিত নিয়মে বাইক কেনার কাজে ব্যবহার করা হয় এবং গ্রাহক চুক্তি অনুযায়ী মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করেন। ব্যাংকভেদে ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ, সুদের হার, ডাউন পেমেন্ট ও অন্যান্য চার্জ আলাদা হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যাংক রয়েছে যারা ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই মোটরসাইকেল কেনার জন্য আলাদা ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, Prime Bank PLC-এর Motorcycle Financing সুবিধায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অথবা মোটরসাইকেলের মূল্যের ৭০ শতাংশ—যেটি কম, সেই পরিমাণ পর্যন্ত ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস এবং যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রয়েছে। চাকরিজীবী ও স্বনিয়োজিত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক আয়ের শর্তও রয়েছে।
আরেকটি উদাহরণ হলো Eastern Bank PLC বা EBL-এর Two Wheeler Loan। ব্যাংকের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই ঋণে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে এবং মোটরসাইকেলের মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হতে পারে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪৮ মাস। চাকরিজীবী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, জমির মালিক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে আবেদনকারীর বয়স, আয়, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী যাচাই করা হয়।
ক্রেডিট কার্ড ছাড়া বাইক কিস্তিতে কেনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাংকভেদে নথির তালিকা পরিবর্তিত হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-টিআইএন, ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরির পরিচয়পত্র বা ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো নথি চাওয়া হতে পারে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতন সনদ বা পে-স্লিপ এবং চাকরির অভিজ্ঞতার তথ্য লাগতে পারে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যবসায়িক ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো নথি প্রয়োজন হতে পারে। EBL-এর বর্তমান Two Wheeler Loan-এর ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর পেশা অনুযায়ী এসব নথির বিভিন্নটি চাওয়া হয়।
এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যাংক যদি বাইকের মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করে, তাহলে বাকি অংশ গ্রাহককে নিজস্ব অর্থ থেকে দিতে হতে পারে। যেমন, ৪ লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন হতে পারে এবং বাকি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিজস্ব অর্থে পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে এটি শুধু বোঝানোর উদাহরণ; প্রকৃত ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের অনুমোদন, বাইকের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
কিছু ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল কোম্পানি বা ডিলারের সঙ্গে ব্যাংকের অংশীদারত্বের মাধ্যমেও কিস্তিতে বাইক কেনার সুযোগ থাকে। আবার কিছু শোরুমে নির্দিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকতে পারে। তাই বাইক কেনার আগে পছন্দের মডেলের অনুমোদিত শোরুমে গিয়ে কোন কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া ভালো। তবে শোরুমে প্রচারিত কোনো EMI অফার দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যাংকের নিজস্ব শর্ত ও মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ যাচাই করা জরুরি।
বাইক কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার আগে শুধু মাসিক কিস্তির পরিমাণ দেখলে হবে না। ঋণের সুদের হার, প্রসেসিং ফি, আগাম পরিশোধের চার্জ, বিলম্ব ফি, বীমা বা অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ মিলিয়ে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটি হিসাব করা উচিত। একই সঙ্গে নিজের নিয়মিত আয়ের সঙ্গে মাসিক কিস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। কারণ কিস্তি পরিশোধে অনিয়ম হলে অতিরিক্ত চার্জ বা অন্যান্য আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ক্রেডিট কার্ড না থাকলেও বাংলাদেশে ব্যাংকের Two Wheeler Loan বা Motorcycle Financing-এর মাধ্যমে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়; আবেদনকারীর বয়স, আয়, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যাংকিং তথ্য ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করে ঋণ অনুমোদন করা হয়। তাই বাইক কেনার আগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ঋণসীমা, মেয়াদ, সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রসেসিং ফি ও মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ তুলনা করে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ শর্ত অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
