এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্টের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্টের পথে বাংলাদেশ

এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ

বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সেবা বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদেশের সব বাংলাদেশি মিশন থেকে এমআরপি ব্যবস্থা গুটিয়ে ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেসব জায়গায় নতুন করে এমআরপি ইস্যু বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য মিশনগুলোতেও এমআরপি সেবা বন্ধ করে ই-পাসপোর্ট চালু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ই-পাসপোর্টের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে বিদেশের বাংলাদেশি মিশনগুলোতে প্রায় ৯৯ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এক লাখ ৭টি ই-পাসপোর্ট ইস্যুর বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। সেটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে দেওয়া হয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, বিদেশে এমআরপির ব্যবহার বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে এমআরপির ব্যবহার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর বৈধ এমআরপি রয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ই-পাসপোর্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এনআইডি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য ব্যবহার করে ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করা যাবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের অমিল রয়েছে, তাদের জন্য এই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে সৌদি আরবে জরুরি ভিত্তিতে আরও আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় থাকা বাংলাদেশি মিশনেও দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে এমআরপি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে থাকা প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এতদিন এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

বিশেষ করে অনেক প্রবাসীর এনআইডি না থাকা এবং জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্যের মধ্যে অমিল থাকায় হঠাৎ করে এমআরপি বন্ধ করা হয়নি। প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এতদিন এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় বিদেশের বাংলাদেশি মিশনগুলোতে এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনে শতভাগ ই-পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page