আগস্ট থেকেই নতুন ট্রেন চালুর সুখবর, ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন রেল কোচ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
আগস্ট থেকেই নতুন ট্রেন চালুর সুখবর, ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন রেল কোচ

ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন ব্রডগেজ রেল কোচ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রেলপথ নির্মাণ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোচ সংকটের কারণে অনেক রুটে কাঙ্ক্ষিত ট্রেন চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে সেই সংকটের অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী আগস্ট থেকে ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ রেল কোচ দেশে আসা শুরু হবে। এসব কোচ হাতে পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-পাবনা, ঢাকা-খুলনা, মোংলাসহ নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন জানিয়েছেন, ভারত থেকে আমদানি করা ২০০টি ব্রডগেজ রেল কোচ আগামী আগস্ট মাস থেকে দেশে আসতে শুরু করবে। নতুন কোচগুলো পর্যায়ক্রমে রেল বহরে যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে কোচ সংকটে আটকে থাকা বিভিন্ন রুটে ট্রেন চালুর কার্যক্রম শুরু করা হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে দেশের রেল যোগাযোগে বড় ধরনের উন্নয়ন হয়েছে। ২০১৮ সালে যমুনা সেতু-পাবনা রেলপথ, ২০২২ সালে ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর এবং ঢাকা-পদ্মা সেতু-ফরিদপুর রুট, আর ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলেও প্রয়োজনীয় ব্রডগেজ কোচ ও ইঞ্জিনের অভাবে এসব রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে যমুনা সেতু-পাবনা এবং খুলনা-মোংলা রুটে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা যায়নি। ফলে নতুন রেলপথ নির্মাণ হলেও প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন কোচ হাতে পাওয়ার পর যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় প্রথমেই ঢাকা-পাবনা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে সেই ট্রেনটি ভবিষ্যতে মোংলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি আরও জানান, নতুন কোচ যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে ব্যবহৃত কিছু পুরোনো কোচ বিভিন্ন রুট থেকে সরিয়ে অন্য রুটে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল, কমিউটার এবং মেইল ট্রেনগুলোও ধীরে ধীরে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরোনো কোচ ব্যবহার করে গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে একটি নতুন কমিউটার ট্রেন চালুরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকটি ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজন করা হবে। পুরোনো কোচগুলো পরে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য রুটে স্থানান্তর করা হবে।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সরাসরি রেল চলাচল শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর সংখ্যা খুবই সীমিত। বর্তমানে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ছাড়া নতুন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়নি। অন্যদিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস এখন পদ্মা সেতু ব্যবহার করলেও যশোর হয়ে সরাসরি না গিয়ে ফরিদপুর-কুষ্টিয়া ঘুরে চলাচল করছে।

এদিকে যশোর, খুলনা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেছেন, যশোর, খুলনা, বেনাপোল ও দর্শনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সরাসরি ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রীসেবা নয়, রেলওয়ের আয়ও বাড়বে। দ্রুত নতুন ট্রেন চালু না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, দর্শনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর আগে কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, দর্শনাকে ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াশপিট নির্মাণ হয়নি। এই অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ওই রুটে নতুন ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না।

রুট সম্ভাব্য পরিকল্পনা
ঢাকা – পাবনা নতুন আন্তঃনগর ট্রেন
ঢাকা – খুলনা নতুন আন্তঃনগর ট্রেন
খুলনা – মোংলা ট্রেন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
ঢাকা – গোপালগঞ্জ নতুন কমিউটার ট্রেন
বিভিন্ন লোকাল রুট বন্ধ ট্রেন পুনরায় চালু

এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ও ভবিষ্যতে রেলসেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং মালবাহী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

রেল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারত থেকে নতুন ২০০টি কোচ দেশে আসার পর দীর্ঘদিনের কোচ সংকট অনেকটাই কমবে। এর ফলে নতুন রেলপথগুলোতে ট্রেন চালু হওয়ার পাশাপাশি পুরোনো রুটেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে যাত্রীসেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন